সিলেট-২ (বিশ্বনাথ–ওসমানীনগর) আসনে বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী তাহসিনা রুশদীর লুনার শেষ নির্বাচনী জনসভায় মিছিল সহকারে যোগ দিতে গিয়ে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন বিশ্বনাথ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও সিলেট জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি সোহেল আহমদ চৌধুরী।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বিশ্বনাথ পৌরসভার নতুন বাজার এলাকায় ধানের শীষের নির্বাচনী জনসভার অদূরে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। সঙ্গে থাকা নেতাকর্মী ও স্বজনরা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে সিলেটের নর্থ ইস্ট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে বিকেল ৪টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তার আকস্মিক মৃত্যুতে বিশ্বনাথসহ সিলেটের রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে। একজন জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতা ও সংগঠক হিসেবে সোহেল আহমদ চৌধুরীর মৃত্যুতে বিএনপির নেতাকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা শোকাহত হয়ে পড়েন।
সোমবার রাতে সোহেল আহমদ চৌধুরীকে শেষবারের মতো দেখতে তার বিশ্বনাথের বাড়িতে ছুটে যান সিলেট-২ আসনে বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী তাহসিনা রুশদীর লুনা, ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মুহাম্মদ মুনতাছির আলী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মুহাম্মদ আমীর উদ্দিন, নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম. ইলিয়াস আলীর সহোদর এম. আসকির আলী, ইলিয়াস আলীর দুই ছেলে ব্যারিস্টার আবরার ইলিয়াস অর্ণব ও লাবীব শারারসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ। এছাড়াও উপজেলা বিএনপির সভাপতি গৌছ আলী, সাধারণ সম্পাদক লিলু মিয়া, বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, প্রবাসী বিএনপি নেতাকর্মী ও অসংখ্য শুভানুধ্যায়ী উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে, মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বেলা আড়াইটায় বিশ্বনাথ পৌরসভার পূর্ব কারিকোনা গ্রামের নিজ বাড়ির সামনের মাঠে সোহেল আহমদ চৌধুরীর জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
জানাজার নামাজে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির, সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সহসভাপতি এম. আসকির আলী, উপজেলা ও পৌর বিএনপির নেতৃবৃন্দ, জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের স্থানীয় নেতারা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সুশীল সমাজের বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন।
সোহেল আহমদ চৌধুরীর মৃত্যুতে এলাকায় একজন অভিজ্ঞ রাজনৈতিক অভিভাবককে হারানো হলো বলে মন্তব্য করেন স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।