আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-২ (বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর) আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য এম. ইলিয়াস আলীর সহধর্মীনি তাহসিনা রুশদীর লুনা বলেছেন, এই নির্বাচন শুধু একটি আসনের নির্বাচন নয়, এটি গণতন্ত্র ও ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনার সংগ্রাম। ধানের শীষ কোনো সাধারণ প্রতীক নয়; এটি মানুষের অধিকার, ন্যায়বিচার এবং মাথা উঁচু করে বাঁচার শক্তি। আপনাদের একটি ভোট ইতিহাস বদলে দিতে পারে। ধানের শীষে একটি ভোট দেশ ও দশের ভাগ্য বদলে দিবে।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টায় সিলেটের বিশ্বনাথ পৌর শহরের নতুন বাজার প্রবাসী চত্বর সংলগ্ন মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী শেষ জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নেতৃত্বের কথা উল্লেখ করে লুনা বলেন, দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে বিএনপির বিকল্প নেই। জনগণের শক্তিতেই সকল অন্যায় ও দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে বিজয় নিশ্চিত হবে।” তিনি ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, “ভয়ের কিছু নেই, সাহস নিয়ে ১২ তারিখ ভোটকেন্দ্রে যান। কারো ফাঁদে পা দেবেন না এবং শান্তিপূর্ণভাবে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করুন।
সিলেট-২ আসনের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি এই এলাকার সকল সমস্যা চিহ্নিত করেছি। নির্বাচিত হলে ইনশাআল্লাহ প্রথম বছরের মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করা শুরু করব।
বক্তব্যে তিনি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মরহুম সুহেল চৌধুরীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন।
উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি গৌছ আলীর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মো. লিলু মিয়া ও যুবদল আহ্বায়ক সামসুল ইসলামের যৌথ পরিচালনায় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও ইলিয়াস আলীর সহোদর এম. আসকির আলী, কেন্দ্রীয় বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার আব্দুস সালাম, ইলিয়াস আলীর বড় ছেলে ব্যারিস্টার আবরার ইলিয়াস অর্ণব ও ছোট ছেলে লাবীব শারার।
জনসভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মো. ময়নুল হক, উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক গৌছ খান, সাবেক সহ-সভাপতি আব্বাস আলী, পৌর বিএনপির সভাপতি হাজী আব্দুল হাই, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সামসুল ইসলাম, যুক্তরাজ্য বিএনপি নেতা জামাল উদ্দিন, তোফাজ্জল আলম তোফায়েল প্রমুখ।
বিকেলে জনসভাটি জনসমুদ্রে পরিণত হয়। দুপুর থেকেই বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগরের বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে সভাস্থলে আসতে শুরু করেন। ‘ইলিয়াস ভাই ইলিয়াস ভাই’ এবং ‘ধানের শীষ’ স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। বিশেষ করে প্রবাসীদের জন্য সভাস্থলে পৃথক একটি মঞ্চ তৈরি করা হয়, যেখানে শতাধিক প্রবাসী নেতা উপস্থিত ছিলেন। সব মিলিয়ে নির্বাচনের শেষ মুহূর্তের এই জনসভা নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে।