হবিগঞ্জ-৪ সংসদীয় আসনে নির্বাচনী মাঠ ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। নয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকলেও শেষ মুহূর্তে এই আসনে দ্বিমুখী লড়াইয়ের আভাস মিলছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবার জয়-পরাজয়ের নিয়ামক হয়ে উঠতে পারে সনাতন সম্প্রদায় ও চা-বাগানের শ্রমিকদের ভোট।
চুনারুঘাট ও মাধবপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত হবিগঞ্জ-৪ আসনে রয়েছে ২১টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভা। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৪৭ হাজার ৭৪৭ জন, যার মধ্যে চুনারুঘাট উপজেলায় ২ লাখ ৬১ হাজার ৮৪০ জন ভোটার রয়েছেন।
সংখ্যালঘু সনাতন ভোটারের সংখ্যা তুলনামূলক কম হলেও এই আসনটি দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। তবে এবারের নির্বাচনে ভোটের সমীকরণে পরিবর্তনের আভাস মিলছে।
এবার বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন হবিগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও শিল্পপতি আলহাজ্ব সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়সল। অপরদিকে বৃহত্তর সুন্নী ঐক্যজোটের মোমবাতি প্রতীকে লড়ছেন আলোচিত ইসলামী বক্তা মাওলানা গিয়াস উদ্দিন তাহেরী।
এ ছাড়া খেলাফত মজলিসের দেয়াল ঘড়ি প্রতীকে ড. আহমদ আব্দুল কাদেরসহ স্বতন্ত্র ও বিভিন্ন দলের আরও সাতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন।
প্রচারের শুরুতে ধানের শীষ এগিয়ে থাকলেও সময়ের সঙ্গে সেই চিত্র বদলেছে। বর্তমানে ধানের শীষ ও মোমবাতির মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছে। সচেতন মহলের মতে, শেষ পর্যন্ত হিন্দু ও চা-শ্রমিক ভোট যেদিকে যাবে, সেই প্রার্থীই বিজয়ের দৌড়ে এগিয়ে থাকবে।
হবিগঞ্জ-৪ আসনের মাধবপুর ও চুনারুঘাট উপজেলায় ছোট-বড় ২২টি চা-বাগান রয়েছে। এসব বাগানে ৭০ থেকে ৮০ হাজার ভোটার থাকায় চা-শ্রমিকদের ভোট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঐতিহ্যগতভাবে এ ভোটারদের বড় অংশ আওয়ামী ঘরানার হলেও এবারে তারা কার পক্ষে অবস্থান নেবেন, সে বিষয়ে প্রকাশ্যে কেউ মুখ খুলছেন না।
এ অঞ্চলের ভোটারদের প্রধান দাবির মধ্যে রয়েছে— রেমা-কালেঙ্গা সড়কে নদীর ওপর সেতু নির্মাণ, সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা সেবার উন্নয়ন, চা-বাগান এলাকায় পর্যটন শিল্পের বিকাশ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং হয়রানি ও দালালমুক্ত প্রশাসনিক সেবা নিশ্চিতকরণ।
নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে ভোটারদের আগ্রহ ও কৌতূহল। চারটি সংসদীয় আসনের মধ্যে হবিগঞ্জ-৪ আসনকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও আলোচিত আসন হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি কার হাতে যাবে এই আসনের ভাগ্য—সেদিকেই এখন নজর গোটা জেলার।