মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
✔ বাংলা টেক্সট কনভার্টার
শিরোনাম
advertisement
সিলেট বিভাগ

তিনবার এমপি হয়ে কুলাউড়ার উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছি: নওয়াব আলী আব্বাছ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী, জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর)–এর ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও সাবেক তিনবারের সংসদ সদস্য নওয়াব আলী আব্বাছ খান বলেছেন, “কুলাউড়ার মানুষের কাছে আমি একজন পরীক্ষিত জনপ্রতিনিধি। তিনবার সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সংসদ ও এলাকার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছি। সেই অভিজ্ঞতাই আবার কাজে লাগাতে চাই। এটাই আমার জীবনের শেষ নির্বাচন।”

তিনি বলেন, “আমি বিজয়ী হলে কুলাউড়াকে শান্তির জনপদ হিসেবে গড়ে তুলবো। উপজেলার প্রতিটি চা-বাগানের শ্রমিক ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষের সুখে-দুঃখে সবসময় পাশে ছিলাম। আশা করি এবার তারা আমাকে পুনরায় মূল্যায়ন করবে।”

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় কুলাউড়া পৌর শহরের ডাকবাংলো মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নওয়াব আলী আব্বাছ খান বলেন, “আমি চাইলে ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনেও সংসদ সদস্য হতে পারতাম। কিন্তু বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর সঙ্গে আন্দোলনে ভূমিকা রাখতে গিয়ে নির্বাচনে অংশ নেইনি।” তিনি জানান, বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১২ দলীয় জোটের শরিক কাজী জাফর জাতীয় পার্টির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত জাতীয় সরকার গঠিত হলে তিনি সেই সরকারের একজন সদস্য হবেন।

প্রশাসনের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, “কোনো নিরীহ মানুষকে আওয়ামী লীগ ট্যাগ দিয়ে হয়রানি করা যাবে না। যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিন। অন্যথায় নিরীহ মানুষকে হয়রানি করলে আমি প্রতিরোধ ঘোষণা করবো।”

কুলাউড়ার উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সাবেক সংসদ সদস্য নওয়াব আলী সারোয়ার খান, এএনএম ইউসুফ মুক্তার, সুলতান মনসুর, এম এম শাহীন ও আব্দুল জব্বার কুলাউড়ার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন—এটি তিনি কৃতজ্ঞচিত্তে স্বীকার করেন।

বিগত উন্নয়ন নিয়ে সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, “অনেক প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী প্রশ্ন তুলছেন আমি কুলাউড়ার জন্য কী করেছি। আমি যখন প্রথম এমপি হই, তখন তাদের অনেকের রাজনৈতিক জন্মই হয়নি। তারা কীভাবে আমার করা উন্নয়ন দেখবে?”

তিনি উল্লেখ করেন, কুলাউড়া–রবিরবাজার সড়ক, ব্রাহ্মণবাজার–শমসেরনগর সড়ক, কুলাউড়া–সাগরনাল সড়ক ও জুড়ী–ফুলতলা সড়ক তার সময়েই নির্মিত হয়।

এছাড়া তাঁর পরিবারের পৈত্রিক সম্পত্তিতে কুলাউড়া থানার ভবন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়, টিএনটি এক্সচেঞ্জ অফিস এবং পুরনো ডাকবাংলো নির্মাণ করা হয়। তাঁর উদ্যোগেই ডাকবাংলো মাঠ আধুনিকায়ন ও স্বাধীনতা স্মৃতিসৌধ নির্মিত হয়, যেখানে বর্তমানে সব রাজনৈতিক দল ও সংগঠন নির্বিঘ্নে কর্মসূচি পালন করছে।

নওয়াব আলী আব্বাছ বলেন, “তিনবার সংসদে দায়িত্ব পালন করেছি। কেউ বলতে পারবে না—আমার সময়ে থানায় দালালি হয়েছে বা পিআইও অফিসে কমিশন বাণিজ্য হয়েছে।”

নির্বাচিত হলে শহরের যানজট নিরসন, হাকালুকি হাওরসহ পর্যটন খাতের উন্নয়ন, কৃষি ও গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন এবং ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেন তিনি।

জনসভায় সাবেক শিক্ষক মুহিবুর রহমান লাল মিয়ার সভাপতিত্বে ও উপজেলা জাতীয় পার্টির সহ-সভাপতি শেখ আশরাফ উদ্দিনের পরিচালনায় বক্তব্য দেন জাতীয় পার্টি নেতা মুহিবুল কাদির পিন্টু, পৃথিমপাশা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নওয়াব আলী নকী খান, আলী বাকর খান হাসনাইন, সমাজসেবক নওয়াব আলী তকী খান, ছাত্রনেতা নওয়াব আলী হাসিব খান প্রমুখ।

উল্লেখ্য, নওয়াব আলী আব্বাছ খান ১৯৮৮, ১৯৯১ ও ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসন থেকে তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালের পর তিনি এরশাদের জাতীয় পার্টি ত্যাগ করে কাজী জাফরের জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন। দীর্ঘ বিরতির পর এবার ফুটবল প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী মাঠে নেমেছেন এই প্রবীণ রাজনীতিবিদ।

এই সম্পর্কিত আরো