ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে কুলাউড়ায় যুগপুরুষোত্তম পরমপ্রেমময় শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের ১৩৮তম জন্ম মহোৎসব উদ্যাপন করা হয়েছে।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) কুলাউড়ার মাগুরা এলাকায় শ্রী শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভুর দেবালয় প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী নানা ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে এ মহোৎসব অনুষ্ঠিত হয়।
মহোৎসবের কর্মসূচি শুরু হয় বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৫টা ৪৮ মিনিটে সমবেত প্রার্থনার মাধ্যমে। এরপর শ্রী শ্রী ঠাকুরের অমিয় গ্রন্থাদি পাঠ ও মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করা হয়। সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় ভক্তিমূলক সঙ্গীতানুষ্ঠান এবং রাত ৯টা ৩১ মিনিটে কর্মীসভা অনুষ্ঠিত হয়।
শুক্রবার ভোর ৫টা ৩০ মিনিটে দীপক চন্দ্র দাসের পরিচালনায় ঊষা কীর্তনের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। ভোর ৬টা ২২ মিনিটে সমবেত প্রার্থনা, বিশ্বশান্তিকল্পে নামজপ, শ্রীশ্রীঠাকুরের অমিয় গ্রন্থাদি পাঠ ও উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। এ পর্ব পরিচালনা করেন ড. রজত কান্তি ভট্টাচার্য্য (ভানু)।
সকাল ৭টা ১ মিনিটে বাবুল চন্দ্র দাস ও তাঁর দলের পরিবেশনায় ভক্তিমূলক সঙ্গীতানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ৯টা ১ মিনিটে শ্রীশ্রীঠাকুরের ভোগ নিবেদন করা হয়। পরে সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে সীমা দেব ও বাপ্পাদিত্য চৌধুরীর পরিচালনায় শিশুতোষ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।
সকাল ১০টা ১ মিনিটে শ্রীশ্রীঠাকুরের প্রতিকৃতি নিয়ে নগর পরিক্রমা অনুষ্ঠিত হয়। বেলা ১১টা ১ মিনিটে ‘আদর্শ সমাজ গঠনে নারীর ভূমিকা’ শীর্ষক মাতৃসম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়, যা পরিচালনা করেন সুস্মিতা ভট্টাচার্য্য ও লিপীকা রানী চন্দ।
দুপুর ১২টা ১ মিনিটে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বাউল শিল্পী রথীন মিত্র ও তাঁর দলের পরিবেশনায় শ্রীশ্রীঠাকুরের লীলা সংকীর্তন অনুষ্ঠিত হয়। দুপুর ১টা ১ মিনিটে মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হয়।
বেলা ৩টা ১ মিনিটে অনুষ্ঠিত ধর্মসভায় ‘আদর্শ রাষ্ট্র বিনির্মাণে শ্রীশ্রীঠাকুরের অমিয় বাণী ও জীবনাদর্শ’ বিষয়ে আলোচনা করা হয়। এতে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন কুড়িগ্রাম রংপুরের বিশিষ্ট পণ্ডিত শ্রী রায়ন চক্রবর্তী (শুভ)।
সন্ধ্যা ৫টা ৪৮ মিনিটে সমবেত প্রার্থনা ও বিশ্বশান্তিকল্পে নামজপ অনুষ্ঠিত হয়। পরে সন্ধ্যা ৭টা ১ মিনিটে শ্রীশ্রীঠাকুরের অমিয় গ্রন্থাদি পাঠ, মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলন ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে স্থানীয়, টিভি ও বেতারের শিল্পীবৃন্দ অংশ নেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন দিপংকর চন্দ ও নান্টু দাস।
রাত ৯টা ১ মিনিটে ‘বন্দে পুরুষোত্তমম্’ ধ্বনির মাধ্যমে দুই দিনব্যাপী মহোৎসবের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
এ ছাড়া মহোৎসব উপলক্ষে সৎসঙ্গ বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন কুলাউড়া উপজেলা শাখার উদ্যোগে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত একটি ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালিত হয়।
অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বে সবার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করা হয়।
এ সময় মানবকল্যাণে আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানান অনুষ্ঠানের প্রার্থনায় উপস্থিত অতিথিবৃন্দসহ উৎসব উদযাপন পরিষদের সভাপতি সুকুমার মল্লিক এবং সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ চন্দ্র দেব।