সুনামগঞ্জের হাওরে ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছে হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলন, সুনামগঞ্জ জেলা কমিটি। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে শহরের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা জগৎজ্যোতি পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা অভিযোগ করেন, সংশোধিত কাবিটা নীতিমালা–২০২৩ উপেক্ষা করে পিআইসি (প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি) গঠন, সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য এবং অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প দেখিয়ে সরকারের কোটি কোটি টাকা লোপাটের পাঁয়তারা চলছে। গত অর্থবছরের তুলনায় চলতি বছরে পিআইসি সংখ্যা মাত্র ১৫টি বাড়লেও বরাদ্দ রহস্যজনকভাবে বেড়েছে ১৮ কোটি টাকা। অথচ মাঠপর্যায়ে কাজের মান অত্যন্ত নিম্নমুখী এবং গুরুত্বপূর্ণ ক্লোজারগুলো এখনো অরক্ষিত থাকায় বোরো ফসল ঘরে তোলা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি মো. রাজু আহমেদ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাধারণ সম্পাদক মো. ওবায়দুল হক মিলন। তিনি জানান, সংগঠনের পক্ষ থেকে ১৭ জানুয়ারি থেকে ৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জেলার ১২টি উপজেলার ফসলরক্ষা বাঁধ পরিদর্শন শেষে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ২০২৪–২০২৫ অর্থবছরে সুনামগঞ্জ জেলায় ৬৮৭টি পিআইসির বিপরীতে বরাদ্দ ছিল ১২৭ কোটি টাকা। কিন্তু ২০২৫–২০২৬ অর্থবছরে মাত্র ৭০২টি পিআইসির বিপরীতে বরাদ্দ বাড়িয়ে ১৪৫ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। মাত্র ১৫টি পিআইসি বৃদ্ধিতে ১৮ কোটি টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ দেওয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা আরও বলেন, জেলার গুরুত্বপূর্ণ ক্লোজার বা ভাঙা অংশগুলোর কাজ অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে। বোগলাখালী, সিফতখালী, সদরপুর ও উথারিয়া ক্লোজারসহ অধিকাংশ ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে ড্রেজারের বালু, নিম্নমানের বাঁশ ও সিমেন্টের প্লাস্টিক বস্তা ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে পাহাড়ি ঢলের সামান্য চাপেই এসব বাঁধ ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে অনিয়ম ও দুর্নীতি রোধে ১২ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। উল্লেখযোগ্য দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সার্বিক তত্ত্বাবধান নিশ্চিত করা, দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মাধ্যমে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, পিআইসি প্রথা ধ্বংসের ষড়যন্ত্র রুখতে কাবিটা নীতিমালার যথাযথ বাস্তবায়ন ও প্রকৃত কৃষকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং অস্থায়ী ক্লোজারের পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের লক্ষ্যে জরিপ সাপেক্ষে পর্যায়ক্রমে স্লুইস গেট নির্মাণ।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহ-সভাপতি মোজাহিদুল ইসলাম মজনু, ওবায়দুল হক মুন্সী, আলী খান, সুহেল আলম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মাইনুদ্দীন, অর্থ সম্পাদক আকিব জাবেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল বাছির, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মোশফিকুর রহমান স্বপনসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।