জৈন্তাপুর উপজেলার আলুবাগানসহ বিভিন্ন এলাকায় পাহাড় ও টিলা কেটে পরিবেশ রক্ষাকারী লালপাথর উত্তোলন যেন এখন স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। প্রশাসনের একাধিক অভিযান, জরিমানা ও সতর্কতার পরও থামছে না এই পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকাণ্ড। স্থানীয়দের অভিযোগ, লালপাথরের বাড়তি চাহিদাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে একটি সংঘবদ্ধ চক্র নির্বিঘ্নে পাহাড়-টিলা কেটে যাচ্ছে—আর ধ্বংসের মুখে পড়ছে পুরো এলাকার পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জৈন্তাপুর উপজেলার ১নং নিজপাট ইউনিয়নের গোয়াবাড়ী ও কমলাবাড়ি এলাকা এবং ২নং জৈন্তাপুর ইউনিয়নের আলুবাগান এলাকায় দিনের পর দিন পাহাড়ি টিলা কেটে লালপাথর উত্তোলন চলছে। ভারী যন্ত্রপাতি ও শ্রমিক ব্যবহার করে টিলার বুক চিরে তুলে নেওয়া হচ্ছে পাথর—কোনো রকম পরিবেশগত ছাড়পত্র বা বৈধ অনুমতি ছাড়াই।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এই অবৈধ কার্যক্রমে শুক্কুর, মাসুম, তেরা মিয়া, নাছির গংসহ আরও কয়েকজন সক্রিয়ভাবে যুক্ত। উত্তোলিত লালপাথর সরাসরি বিভিন্ন ক্রাশার মিলে সরবরাহ করা হচ্ছে, যেখানে পাথর ভেঙে বাণিজ্যিকভাবে বাজারজাত করা হয়।
জানা গেছে, এসব লালপাথর মূলত সিরামিক পণ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে—যেগুলোর মান অত্যন্ত নিম্নমানের। অথচ এই নিম্নমানের পণ্যের জন্য পাহাড় কেটে নেওয়ার ফলে এলাকার পরিবেশ পড়ছে চরম ঝুঁকিতে। টিলা ধ্বংসের কারণে ভূমিধসের আশঙ্কা বাড়ছে, নষ্ট হচ্ছে প্রাকৃতিক জলাধার, ধ্বংস হচ্ছে পাহাড়ি গাছপালা এবং হুমকির মুখে পড়ছে স্থানীয় জীববৈচিত্র্য।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসন নিয়মিত অভিযান চালিয়ে জরিমানা করলেও মূল হোতারা বরাবরই ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। অভিযানের খবর আগেই পেয়ে শ্রমিকরা এলাকা ছেড়ে সরে পড়লেও, পেছন থেকে পুরো কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণকারী প্রভাবশালীরা থেকে যায় অদৃশ্য। ফলে কিছুদিন বিরতির পর আবারও শুরু হয় পাহাড় কাটা।
তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন যদি অভিযানই যথেষ্ট হয়, তাহলে কেন বছরের পর বছর ধরে একই এলাকায়, একই ব্যক্তিদের মাধ্যমে পাহাড় কাটা থামানো যাচ্ছে না?
এই অবৈধ লালপাথর উত্তোলনের পেছনে প্রকৃত লাভবান কারা—তা কি কখনো গভীরভাবে তদন্ত করা হয়েছে?
পরিবেশবাদীদের দাবি, জৈন্তাপুরে যেভাবে নির্বিচারে পাহাড় ও টিলা কেটে লালপাথর উত্তোলন করা হচ্ছে, তা পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি। অভিযান ও জরিমানার পরও যদি একই চক্র বহাল থাকে, তবে এটি স্পষ্টভাবে নজরদারির ব্যর্থতা। অবিলম্বে পাহাড় কাটা বন্ধ করে মূল হোতাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা না নিলে ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয় অনিবার্য। টিলা কাটা বন্ধ না হলে ভবিষ্যতে জৈন্তাপুরে আকস্মিক ভূমিধস, জলাবদ্ধতা ও কৃষি জমির মারাত্মক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
জৈন্তাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) পলি রানী দেব , অবৈধ পাহাড় ও টিলা কাটার বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ও বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন অনুযায়ী জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা ও ভারী জরিমানার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করা হয়।