কর্মজীবী নারীদের 'বেশ্যা' বলার মধ্য দিয়ে জামায়াতে ইসলামীর মুখোশ খুলে গেছে মন্তব্য করেছেন মৌলভীবাজার–৩ (সদর–রাজনগর) আসনের বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী এম নাসের রহমান।
তিনি বলেন, 'এই বক্তব্যে জামায়াতের চিন্তা-চেতনা ও নারীসমাজ সম্পর্কে তাদের দৃষ্টিভঙ্গির নগ্ন প্রকাশ হয়েছে।
রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) রাতে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার সরকার বাজারে ধানের শীষের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
এম নাসের রহমান আরও বলেন, 'জামায়াতের আমীর সাহেব বড় পেরেশানিতে পড়েছেন। তিনি একেবারে টুয়েন্টি টাইট ধরা খেয়ে গেছেন। তাঁর এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলের আইডিতে দেওয়া একটি পোস্টে যেসব নারী চাকরি বা ব্যবসা করেন, তাদের 'বেশ্যা' বলা হয়েছে। নাউজুবিল্লাহ, আস্তাগফিরুল্লাহ।'
তিনি বলেন, 'পোস্টটি মাত্র দুই মিনিট ছিল। কিন্তু এর মধ্যেই মধ্যেই স্ক্রিনশট হয়ে নেটদুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে কর্মজীবী নারীদের প্রতি জামায়াতের দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ হয়ে গেছে। এই ঘটনায় শুধুমাত্র কর্মজীবী নারীরাই নন, সারাদেশের নারীদের ভোট জামায়াতের বাক্স থেকে বাদ পড়ে গেল।'
তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামী শুধু নামেই ইসলামী দল, কাজে নয়। এরা ধর্মের দোহাই দিয়ে দেশের নারীসমাজকে ঘরে বন্দি করে রাখতে চায়। তারা ধর্মের অপব্যাখ্যা করে মুসলমানদের বিভ্রান্ত করছে। তাদের এক নেতার বক্তব্য—একজন মুসলমান মারা গেলে নাকি চতুর্থ প্রশ্ন হবে, আপনি মরার আগে কোন দলকে ভোট দিয়েছেন, নাউজুবিল্লাহ। এই জামায়াতকে ভোট না দিতে দেশের বুজুর্গানেরা বলেছেন।
নাসের রহমান নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, 'ভোটের দিন রোজা রেখে ভোটকেন্দ্র পাহারা দিতে হবে, যাতে ভোট চুরি না হয়।'
২নং মনুমুখ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. মোস্তফা মিয়ার সভাপতিত্বে ও আব্দুর রহমানের পরিচালনায় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. ফয়জুল করিম ময়ূন, সদস্য সচিব আব্দুর রহিম রিপন, কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য ফয়সল আহমেদ চৌধুরী, জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান, জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি আব্দুল মুকিত, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. ফখরুল ইসলাম, জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি অদুদ আলম, মৌলভীবাজার সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মুজিবুর রহমান মজনু, সাধারণ সম্পাদক মারুফ আহমেদ, স্থানীয় বিএনপি নেতা আব্দুল হেকিমসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।