দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে সন্ত্রাসীদের গুলিতে খালেদ মিয়া (২৭) নামে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে শহরের ইন্ড স্ট্রিট এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহত খালেদ মিয়া সিলেট জেলার বিশ্বনাথ উপজেলার অলংকারী ইউনিয়নের টেংরা গ্রামের বাসিন্দা কছির আলীর একমাত্র ছেলে। তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারসহ দক্ষিণ আফ্রিকায় অবস্থানরত বাংলাদেশি কমিউনিটিতে গভীর শোক ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
পারিবারিক ও প্রবাসী সূত্রে জানা যায়, খালেদ জোহানেসবার্গে তার মামা অ্যাডভোকেট আফরোজ উদ্দিনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দেখাশোনার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। শনিবার সকালে ব্যবসায়িক প্রয়োজনে তিনি ইন্ড স্ট্রিট এলাকায় একটি ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করতে যান। টাকা নিয়ে ব্যাংক থেকে বের হওয়ার সময় আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী তাকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। এতে গুরুতর আহত হয়ে তিনি ঘটনাস্থলেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে জোহানেসবার্গের একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
বর্তমানে খালেদের মরদেহ ওই হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন শেষে মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।
অলংকারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান লিটন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খালেদ অত্যন্ত ভদ্র, নম্র ও অমায়িক একজন যুবক ছিলেন। জোহানেসবার্গের বাংলাদেশি কমিউনিটির কাছেও তিনি পরিচিত ও প্রিয় মুখ ছিলেন।
প্রবাসী সূত্র জানায়, খালেদের মৃত্যুর ঘটনায় দক্ষিণ আফ্রিকায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিয়ে আবারও চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় প্রবাসী বাংলাদেশিরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এদিকে খালেদ মিয়ার মৃত্যুর খবরে তার গ্রামের বাড়ি টেংরায় শোকের মাতম চলছে। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে তার বাবা-মা শোকাহত ও বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।