সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার জয়কলস ইউনিয়নের আস্তমা থেকে শান্তিগঞ্জ পর্যন্ত নির্মাণাধীন সড়ক কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ সড়ককে ঘিরে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।
নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের ফলে সড়কটি অল্প সময়ের মধ্যেই নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
উপজেলা এলজিইডি অফিস সূত্রে জানা যায়, বহুল প্রত্যাশিত আস্তমা–শান্তিগঞ্জ সড়কটি ২০২২ সালে অনুমোদন পায়। সড়ক নির্মাণের কাজটি পায় মেসার্স আতিকুর রহমান এন্টারপ্রাইজ। প্রায় ২ কোটি ১৪ লাখ ১৮ হাজার টাকা ব্যয়ে এক বছরের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো কাজ সম্পন্ন হয়নি। এক দফা মেয়াদ বাড়ানো হলেও কাজের অগ্রগতি সন্তোষজনক নয়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের ইট, বালু ও খোয়া ব্যবহার করে সড়ক নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়ক নির্মাণ কাজে ব্যবহৃত ইট, বালু ও খোয়ার মান অত্যন্ত নিম্নমানের। এছাড়া সড়কের দুই পাশের এজিংয়ে শিডিউল অনুযায়ী মাটি ব্যবহার করা হয়নি। এতে সামান্য বৃষ্টিতেই নির্মাণাধীন সড়ক ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আস্তমা গ্রামের বাসিন্দা মাহমুদুর রহমান তারেক বলেন, “এই রাস্তাটি আমাদের স্বপ্নের রাস্তা। কিন্তু এখানে নিম্নমানের ইট, সিমেন্ট ও কাঁদা মিশ্রিত বালু ব্যবহার করা হচ্ছে। এভাবে কাজ হলে রাস্তাটি বেশিদিন টিকবে না। আমরা চাই আমাদের কাঙ্ক্ষিত রাস্তাটি যেন মানসম্মতভাবে নির্মাণ করা হয়।”
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “রাস্তাটার কাজ পুরোপুরি দুই নাম্বারি হচ্ছে। ঠিকাদার ইচ্ছেমতো কাজ করছে। আমরা বারবার বাধা দিলেও তারা কোনো কথা শুনছে না। এভাবে কাজ করার চেয়ে না করাই ভালো। আমরা চাই কাজটি সঠিকভাবে হোক।”
এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স আতিকুর রহমান এন্টারপ্রাইজ-এর স্বত্বাধিকারী আতিকুর রহমান বলেন, “সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের বিষয়টি আমি জানি না। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি।” এ বিষয়ে শান্তিগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী সাজেদুল আলম বলেন, “সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজের সাইট থেকে নিম্নমানের মালামাল সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছি। পাশাপাশি মানসম্মত সামগ্রী ব্যবহার করে কাজ সম্পন্ন করার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”