সিলেটের জাফলংয়ে ‘ফাইভ স্টার গ্রুপ’ ও সোহাগ-কালা মানিক সিন্ডিকেটের অবৈধ বালু উত্তোলন ও ‘মরণখেলা’ নিয়ে গত ২৯ জানুয়ারি দৈনিক সবুজ সিলেট পত্রিকায় বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন।
সংবাদের সত্যতা যাচাই ও সরকারি সম্পদ রক্ষায় বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) দিবাগত গভীর রাতে জাফলংয়ের পরিবেশ সংকটাপন্ন এলাকায় (ইসিএ) এক সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করেছে টাস্কফোর্স।
অভিযানে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও ক্রাশার মেশিন পরিচালনার দায়ে ১১ জনকে আটক করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
জানা যায়, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১টা থেকে ৩টা পর্যন্ত গোয়াইনঘাট উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ওমর ফারুকের নেতৃত্বে এ যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়। জাফলংয়ের জুমপাড় ও বল্লাঘাট এলাকায় পরিচালিত এ অভিযানে পুলিশ ও বিজিবির সদস্যরা অংশ নেন। অভিযানে হাতেনাতে ১১ জনকে আটক করা হয় এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের প্রত্যেককে ১ মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
উল্লেখ্য, গত ২৯ জানুয়ারি দৈনিক সবুজ সিলেট পত্রিকায় ‘জাফলংয়ে সোহাগ-কালা মানিক সিন্ডিকেটের মরণখেলা, নেপথ্যে ফাইভ স্টার গ্রুপ’ শীর্ষক একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে কীভাবে সিন্ডিকেটটি প্রশাসনকে ফাঁকি দিয়ে গভীর রাতে পিয়াইন নদী থেকে বালু উত্তোলন করছে এবং সাধারণ শ্রমিকদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলছে, তা বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। সংবাদটি প্রকাশের পর গোয়াইনঘাট উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ অপরাধীদের দমনে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করে এই অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযান শেষে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ওমর ফারুক জানান, “জাফলংয়ের পরিবেশ রক্ষা ও সরকারি সম্পদ লুটপাট বন্ধে আমরা নিয়মিত কাজ করছি। সংবাদমাধ্যমে উঠে আসা তথ্য এবং আমাদের নিয়মিত নজরদারির ভিত্তিতেই এই গভীর রাতের অভিযান। পরিবেশ সংকটাপন্ন এলাকায় যারা আইন অমান্য করবে, তাদের বিরুদ্ধে এই কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে।”
অভিযানকালে গোয়াইনঘাট থানার এসআই আব্দুল হান্নান, সংগ্রাম বিওপির ক্যাম্প কমান্ডার নায়েক সুবেদার হারুন অর রশিদসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পর্যাপ্ত সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে, সবুজ সিলেটের সংবাদ প্রকাশের পর প্রশাসনের এই তড়িৎ পদক্ষেপে জাফলংয়ের সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। সচেতন মহল মনে করছেন, নিয়মিত এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকলে পিয়াইন নদী রক্ষা পাবে এবং সোহাগ ও কালা মানিকের মতো সিন্ডিকেট হোতারা পিছু হটতে বাধ্য হবে।