ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মৌলভীবাজার জেলার চারটি আসনে মোট ২৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করবেন। মনোনয়ন দাখিলের সময় এর মধ্যে দুইজন নারী প্রার্থী ছিলেন জেলার দুটি আসনে। গত ৩ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইকালে মৌলভীবাজার-৩ (সদর-রাজনগর) আসনের স্বতন্ত্র নারী প্রার্থী রেজিনা নাসেরের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেন জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা তৌহিদুজ্জামান পাভেল।
বর্তমানে মৌলভীবাজার জেলায় বৈধ ঘোষিত ২৪ প্রার্থীর মধ্যে একমাত্র নারী প্রার্থী হলেন সাদিয়া নোশিন তাসনিম চৌধুরী। তিনি ২৩৬, মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) সংসদীয় আসন থেকে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) মনোনীত প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন কাঁচি প্রতীক নিয়ে।
সাদিয়া নোশিন তাসনিম চৌধুরীর বাবা সাদ লুৎফুর রাজ্জাক চৌধুরী ছিলেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। মা আমিনা বেগম চৌধুরী গৃহিনী। বাড়ি মৌলভীবাজারের কুলাউড়া পৌর শহরের ৯ নম্বর ওয়ার্ডস্থ লস্করপুর এলাকায়। কুলাউড়ার ঐতিহ্যবাহী নবীন চন্দ্র সরকারী মডেল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক সম্পন্ন করে সাদিয়া ভর্তি হন সিলেট সরকারি মহিলা কলেজে। সেখান থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করে মুরারিচাঁদ (এমসি) কলেজে স্নাতক শ্রেণিতে ভর্তি হওয়ার পর ২০১১ তিনি সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সদস্য হিসেবে যুক্ত হন ছাত্র রাজনীতিতে। এরই ধারাবাহিকতায় বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) নারীদের সংগঠন বাংলাদেশ নারী মুক্তি কেন্দ্রের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। তিন বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে তৃতীয় সাদিয়া নোশিন তাসনিম চৌধুরী এখনো বিয়ের পিড়িতে বসেননি। সার্বক্ষণিক রাজনীতির পাশাপাশি নিজের খরচ মেটানোর জন্য তিনি টিউশনি করেন। জেলার চারটি আসনের মধ্যে একমাত্র এ নারী প্রার্থীকে নিয়ে বেশ আলোচনা হচ্ছে সচেতন ভোটারের মধ্যে।
সাদিয়া নোশিন তাসনিম বলেন, কুলাউড়ায় পিছিয়ে পড়া নারীদের এগিয়ে নিতে এবং অবহেলিত এলাকার উন্নয়ন শিক্ষা, কৃষিকাজাকে এগিয়ে নিতে আমি এই নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছি। একমাত্র মহিলা প্রার্থী হিসেবে এলাকায় সবার কাছ থেকে আমি ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি।