আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মৌলভীবাজারের চারটি আসনের জন্য জোট, দলীয় ও স্বতন্ত্র ২৩ জন প্রার্থীর মধ্যে প্রতিক বরাদ্ধ করা হয়েছে।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকাল ১১ টা থেকে দুপুর পর্যন্ত জেলা প্রশাসক সন্মেলন কক্ষে মৌলভীবাজার জেলা রিটার্ণিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাবেল প্রতিক বরাদ্ধেও ঘোষণা করেন।
২৩৭ মৌলভীবাজার-৩ (সদর-রাজনগর) আসনে ১০ দলীয় জোটের একাধিক প্রার্থী রয়েছেন। এখানে ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে খেলাফত মজলিসের প্রার্থী আহমেদ বিল্লাল ঘড়ি প্রতিক নিয়ে প্রতিন্দন্ধিতা করছেন, ১০ দল তাকে মনোনয়ন দিয়েছে। কিন্তু এখানকার জামায়াত মনোনীত প্রার্থী আব্দুল মান্নান দলীয় সিন্ধান্তের বাহিরে গিয়ে মনোনয়ন প্রত্যাহার না করাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতিক পেয়েছেন। তার পক্ষে দলের কয়েকজন নেতা প্রতিক নিয়েছেন। ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী খেলাফত মজলিসের প্রার্থী আহমদ বিল্লাল জানান, তিনিই একমাত্র ১০ দলীয় দলের বৈধপ্রার্থী, ঘড়ি প্রতিক নিয়ে তিনি নির্বাচন করবেন। তিনি আরও জানান, আব্দুল মান্নানের বিষয়ে দলীয়ভাবেই সিন্ধান্ত আসবে, তবে তিনি আশাবাদী আব্দুল মান্নান নির্বাচন থেকে সওে আসবেন এবং তাঁর নেতৃত্বেই ১০ দলীয় জোট নির্বাচন করে ভোটে এই আসনে জয়লাভ করবে। তবে আব্দুল মান্নান রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে উপস্থিত না থাকায় তার মতামত পাওয়া যায়নি।
এদিকে ২৩৮ মৌলভীবাজার-৪(শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনে ১০ দলীয় প্রার্থী নিয়ে ধু¤্রজাল সৃষ্ঠি হয়েছে। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী শেখ নুরে আলম হামিদী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি(এনসিপি)ও প্রীতম দাস দুজনই নিজেদের ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী দাবী করছেন। তবে এখানকার জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুর রব মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস প্রার্থী শেখ নুরে আলম হামিদী নিজেকে ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে দাবী করে বলেন কেন্দ্র থেকে সিন্ধান্ত মোতাবেক তিনি ১০ দলীয় প্রার্থী হিসেবেই নির্বাচন করার জন্য রিক্সা প্রতিক নিয়ে লড়বেন। তিনি বলেন, অন্যকেহ ১০ দলের প্রার্থী দাবী করলে সেটা তার ব্যক্তিগত বিষয়।
এবিষয়ে জাতীয় নাগরিক কমিটি(এনসিপি)ও প্রার্থী প্রীতম দাস বলেন, সবাই জানে অনেক আগে থেকে এনসিপি ৩০ টি আসন পেয়েছে সেখানে তারও নাম আছে। তবে তিনি বলেন, পরবর্তীতে অন্যান্য দলের ১৫টি আসন থেকে উন্নীত কওে ২৩ টি আসন দেয়া হয় এতে করে শেখ নুরে আলম হামিদীও নির্বাচন করছেন। তবে এবিষয়ে আলোচনা চলছে বলেও দাবী করেন তিনি। তিনি বলেন এই আসনটি ১০ দলের জন্য উন্মোক্ত করে দেয়া হয়েছে। তবে এর স্বপক্ষে জোরালো কোনও বক্তব্য বা প্রমাণ মিলেনি। প্রীতম বলেন তিনি এনসিপি ও ১০ দলের প্রার্থী হিসেবে শাপলাকলি প্রতিক নিয়েই নির্বাচনে লড়বেন। এই আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. মহসিন মিয়া মধুও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ফুটবল প্রতিক নিয়ে নির্বাচন করছেন।
একনজরে ৪ আসনের প্রার্থীরা ও প্রাপ্ত প্রতীক:
২৩৫ মৌলভীবাজার-১ (বড়লেখা-জুড়ি): বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নাসির উদ্দিন আহমেদ (ধানের শীষ), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম (দাঁড়িপাল্লা), আহমেদ রিয়াজ উদ্দিন, জাতীয় পার্টি(লাঙ্গল), মো. আব্দুন নুর, গনঅধিকার পরিষদ(ট্রাক), মো. শরিফুল ইসলাম গণফ্রন্ট (মাছ) এবং বেলাল আহমদ স্বতন্ত্র (কাপ-পিরিচ)।
২৩৬ মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া): বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল(বিএনপি) মো. শওকতুল ইসলাম (ধানের শীষ), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মো. সায়েদ আলী(দাঁড়িপাল্লা), স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক এমপি নওয়াব আলী আব্বাছ খান(ফুটবল), জাতীয় পার্টি মো. আব্দুল মালিক (লাঙ্গল) স্বতন্ত্র প্রার্থী, ফজলুল হক খান (কাপ-পিরিচ), স্বতন্ত্র প্রার্থী এম জিমিউর রহমান (ঘোড়া), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, আব্দুল কুদ্দুস (হাতপাখা) এবং বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী) সাদিয়া নোশিন তাসনিম চৌধুরী কাঁচি প্রতিক নিয়ে লড়বেন। এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক এমপি নওয়াব আলী আব্বাছ খান ও স্বতন্ত্র প্রার্থী এম জিমিউির রহমান চৌধুরী দুজনই ফুটবল মার্কা প্রতিক দাবী করলে লটারীর মাধ্যমে নওয়াব আলী আব্বাছ খান ফুটবল মার্কা পান।
২৩৭ মৌলভীবাজার-৩ (সদর-রাজনগর): বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদীদল(বিএনপি) এম নাসের রহমান(ধানের শীষ), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, মো. আব্দুল মান্নান (দাঁড়িপাল্লা), খেলাফত মজলিস, আহমদ বিলাল (দেয়াল ঘড়ি) ও বাংলাদেশের কমিউনিষ্ট পার্টি, জহর লাল দত্ত (কাস্তে)। এই আসনে জামায়াত সমর্থিত ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী খেলাফত মজলিসের আহমদ বিলাল মনোনীত হলেও বাংলাদেশ জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মো. আব্দুল মান্নান মনোনয়ন প্রত্যাহার করেননি।
২৩৮ মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী(ধানের শীষ), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী শেখ নুরে আলম হামিদী(রিকশা), জাতীয় নাগরিক পার্টি ও ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী দাবিদার প্রীতম দাস (শাপলা কলি), বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মহসিন মিয়া মধু(ফুটবল), জাতীয় পার্টি, মোহাম্মদ জরিফ হোসেন (লাঙ্গল) ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ এর প্রার্থী, মো. আবুল হাসান (মই) মার্কা প্রতিক নিয়ে নির্বাচনে লড়বেন।