মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় সাপ্তাহিক সীমান্তের ডাক-এর আয়োজনে গুণীজন সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে খ্যাতিমান জিনবিজ্ঞানী ও ধান গবেষক ড. আবেদ চৌধুরী এবং বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সভাপতি মাহিদুর রহমানকে সম্মাননা দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টায় কুলাউড়ার একটি স্থানীয় রেস্টুরেন্টে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে দেশের বিজ্ঞান, শিক্ষা, সমাজ ও মানুষের অগ্রগতি নিয়ে বক্তব্য দেন সংবর্ধিত অতিথিরা। ড. আবেদ চৌধুরী সফলতার জন্য মেধার পাশাপাশি কাজের প্রতি অঙ্গীকার, অধ্যবসায় ও ত্যাগের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, “আমি যখন মৌলভীবাজার স্কুলে পড়েছি, তখন আমি দুনিয়ার একেবারে খুব ব্রিলিয়ান্ট ছিলাম না। কিন্তু আমি কাজে লেগে আছি। বিজ্ঞানের গবেষণায় আমি লেগে আছি। আমার একটা কমপ্লিট কমিটমেন্ট আছে। আমি সবকিছু ত্যাগ করে এটা করছি। আসলে সাকসেসের মূল ব্যাপারটা হচ্ছে ত্যাগ।”
ছাত্রজীবনের আন্দোলনের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, “১৯৬৭ সালে যেদিন ইহুদিরা প্রথম জেরুজালেমে প্রবেশ করেছিল, একই সময়ে আইয়ুববিরোধী আন্দোলনও মাথা তুলে দাঁড়িয়েছিল। তখন আমি মৌলভীবাজার স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র। সেখান থেকে বেরিয়ে এসে আন্দোলনে যুক্ত হয়েছিলাম।”
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে হাওরাঞ্চলের মেধাবী শিক্ষার্থীদের সুযোগ প্রসঙ্গে ড. আবেদ চৌধুরী বলেন, “সাস্টে সিলেটিদের জায়গা নেই। আমাদের কোনো ইকুয়িটি নেই। হাওর এলাকার মানুষের প্রচণ্ড ট্যালেন্টেড ছেলেমেয়ে রয়েছে। তাদের জন্য তো শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে জায়গা থাকা দরকার। এই কারণেই তো আমরা আন্দোলনটা করেছি।”
দেশের বৈষম্য ও মানুষের বিদেশমুখী হওয়ার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, “আমরা হয়তো একশ, দুইশ, এক হাজার, দুই হাজার মানুষ মিলিওনিয়ার, বিলিওনিয়ার। কিন্তু অসংখ্য দরিদ্র মানুষ আছে। তাদের দেশের প্রতি যে আস্থাহীনতা, বিশ্বাসহীনতা; তা তাদের প্ররোচিত করছে বিদেশ চলে যেতে। যেকোনো মূল্যে তারা বিদেশ যেতে চায়। সিলেটিরাও যাচ্ছে।”
অন্য সংবর্ধিত অতিথি মাহিদুর রহমান তাঁর বক্তব্যে দেশ, প্রবাসী বাংলাদেশি ও কুলাউড়ার মানুষের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন। তিনি স্থানীয় সাংবাদিকতা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সাপ্তাহিক সীমান্তের ডাক-এর ভূমিকার প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে গণমাধ্যমকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সাপ্তাহিক সীমান্তের ডাক-এর পরিচালক মাহফুজ আহমেদের সভাপতিত্বে এবং পত্রিকাটির সম্পাদক সঞ্জয় দেবনাথ ও সিনিয়র রিপোর্টার মোক্তাদির হোসেনের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন কুলাউড়া সরকারি ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ সৌম্য প্রদীপ ভট্টাচার্য, ইয়াকুব তাজুল মহিলা ডিগ্রি কলেজের সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এমদাদুল ইসলাম ভুট্টো, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সজল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অবসরপ্রাপ্ত) এহসান উদ্দিন চৌধুরী, কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম মুন্না, যুগান্তর-এর প্রতিনিধি আজিজুল ইসলাম এবং সীমান্তের ডাক-এর স্টাফ রিপোর্টার নাজমুল বারী সোহেল।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন ইয়াকুব তাজুল মহিলা ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল-আমীন চৌধুরী, প্রথম আলো-এর জুড়ী প্রতিনিধি কল্যাণ প্রসূন চম্পু, কুলাউড়া টাউন ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নাসির জামান জাকি, সমাজসেবী জাহের আলম চৌধুরী, এম হাজির আলী, নুরুল ইসলাম খান বাবলা, সীমান্তের ডাক-এর বার্তা সম্পাদক ও দৈনিক সবুজ সিলেট-এর প্রতিনিধি তারেক হাসান, দেশের কণ্ঠ-এর প্রতিনিধি রফিকুল ইসলাম মামুন, ভোরের পাতা-এর প্রতিনিধি রুবেল বখস পাবেল, নাগরিক টিভির মাহফুজুর রহমান মাহি, বাংলার জাগরণ-এর প্রতিনিধি আজিজুল ইসলাম, দৈনিক আমাদের পত্রিকা-এর সামসুউদ্দিন বাবুসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ব্যক্তিরা।
অনুষ্ঠানের শেষে সাপ্তাহিক সীমান্তের ডাক-এর পক্ষ থেকে ড. আবেদ চৌধুরী ও মাহিদুর রহমানের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।