সিলেটের বিশ্বনাথে নিজ বাসায় হামলায় পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল মজিদ বকুল আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের বিশ্বনাথ উপজেলা শাখার সহসভাপতি শামীম আহমদকে দায়ী করেছেন স্থানীয় ছাত্রদল নেতারা।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে পৌর শহরের টিএনটি রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।
হামলায় আহত আবদুল মজিদ বকুলকে প্রথমে বিশ্বনাথ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে ছাত্রদল নেতার ওপর হামলার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিশ্বনাথ পৌর শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও পথসভা করেছে উপজেলা ও পৌর ছাত্রদল।
উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক হোসাইন আহমদ প্রবেলের সভাপতিত্বে এবং যুগ্ম সম্পাদক রাসেল আহমদের পরিচালনায় পথসভায় বক্তব্য দেন বিশ্বনাথ পৌর বিএনপি নেতা বশির আহমদ, শামছুল ইসলাম, পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক ফখরুল ইসলাম রেজা, সদস্যসচিব জাকির হোসেন ইমনসহ নেতৃবৃন্দ।
এ সময় বিক্ষোভ মিছিলে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
পথসভায় বক্তারা আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শামীম আহমদকে গ্রেপ্তারের দাবি জানান। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাকে গ্রেপ্তার করা না হলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের বিশ্বনাথ উপজেলা শাখার সহসভাপতি শামীম আহমদ তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য ও স্ট্যাটাস দেন। এসব পোস্টের কমেন্টে আবদুল মজিদ বকুল পাল্টা মন্তব্য করেন। এর জের ধরে বুধবার সন্ধ্যায় বকুলের বাসায় গিয়ে তার ওপর হামলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিশ্বনাথ পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক ফখরুল ইসলাম রেজা বলেন, “নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা শামীমের ফেসবুক পোস্টে কমেন্ট করায় তিনি আমাদের পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বকুলের বাসায় গিয়ে হামলা করেছেন। খবর পেয়ে আশপাশে থাকা নেতাকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।”
এ বিষয়ে বিশ্বনাথ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গাজী মাহবুবুর রহমান বলেন, “বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তের আলোকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” তবে বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় লিখিত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি বলেও জানান তিনি।