সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলায় নিজের বিরুদ্ধে আনা ভূমি ও পারিবারিক বিরোধসংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগকে মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেছেন মো. রফিকুল ইসলাম বিন বারী।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকালে উপজেলার নতুনপাড়ায় নিজ বাসভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, গত ১ আগস্ট মো. কামাল উদ্দিন আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, সেগুলোর কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই।
রফিকুল ইসলাম দাবি করেন, গত ২৩ জুলাই জামালগঞ্জ মৌজার ৩৩৮ নম্বর খতিয়ানের ৮০২০ নম্বর দাগের জমির মালিকানা তদন্তে ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার শাহাপুর বাঁধ বাজারে গেলে কয়েকজন ব্যক্তি সেখানে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করেন। তিনি বলেন, তদন্ত কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করতেই এমন পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছিল। তার নির্দেশে কাউকে মারধরের অভিযোগ সম্পূর্ণ অসত্য বলে তিনি দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, কয়েক বছর আগে কামাল উদ্দিন ও আজিজুর রহমানের বাড়ি-সংক্রান্ত বিরোধ স্থানীয়ভাবে নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা সফল হয়নি। ওই বিরোধের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
ছোট বোন পারভিন আক্তারের দেনমোহরের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও অস্বীকার করে রফিকুল ইসলাম বলেন, অভিযোগটি সত্য হলে পরিবারের অন্য সদস্যরা এতদিনে বিষয়টি জানতেন। তার ভাষ্য, সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে এ অভিযোগ আনা হয়েছে।
পারভিন আক্তারের বাড়ির জায়গা অন্যের নামে দলিল করে দেওয়ার অভিযোগও নাকচ করেন তিনি। রফিকুল ইসলামের দাবি, ওই এলাকার কোনো জমিই তার মালিকানাধীন নয়। বরং অতীতে পারিবারিক বিরোধ মীমাংসায় তিনি সহযোগিতা করেছিলেন, যা পরে আদালতের রায়ের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও কয়েকটি ভূমি-সংক্রান্ত অভিযোগের জবাব দিয়ে দাবি করেন, বিভিন্ন জমির মালিকানা, বণ্টন ও দলিল সম্পূর্ণ আইনানুগভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন।
শেষে সাংবাদিকদের উদ্দেশে রফিকুল ইসলাম বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা প্রতিটি অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে যেকোনো সময় উন্মুক্ত আলোচনায় বসতে তিনি প্রস্তুত। তিনি গণমাধ্যমকে নিরপেক্ষ অনুসন্ধানের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য তুলে ধরার আহ্বান জানান।