সিলেট মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে এক রাতের ব্যবধানে বদলির প্রজ্ঞাপন জারি ও পরদিনই তা বাতিলের নজিরবিহীন ঘটনায় চরম চাঞ্চল্য ও প্রশাসনিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এমন 'উদ্বেগজনক সিদ্ধান্তহীনতা' এবং পদে রদবদল নিয়ে বারবার 'ইউ-টার্ন' নেওয়ার পেছনে কোন অদৃশ্য শক্তি বা 'খুঁটির জোর' কাজ করছে—তা নিয়ে স্থানীয় শিক্ষাঙ্গন ও সুশীল সমাজে তীব্র সমালোচনা ও ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন, দাপ্তরিক প্রয়োজন বা কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়া মন্ত্রণালয় নিশ্চয়ই কাউকে বদলি করে না। তবে বদলির আদেশ হওয়ার পরপরই অলৌকিকভাবে তা রহিত বা বাতিল হয়ে বর্তমান সচিব অধ্যাপক চৌধুরী মামুন আকবরের স্বপদে বহাল থাকার ঘটনা এবারই প্রথম নয়। কোনো বিশেষ প্রভাবের কারণেই কি দফায় দফায় মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হচ্ছে? সাধারণ প্রশাসনিক পদায়নকে ঘিরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এমন লড়বড়ে ও রহস্যময় ভূমিকা পুরো শিক্ষা বোর্ডের ভাবমূর্তি মারাত্মক ক্ষুণ্ণ করছে বলে মনে করছেন শিক্ষক ও অভিভাবক মহল।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত রোববার (২৬ জুলাই) রাতে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে সিলেট মুরারি চাঁদ (এমসি) সরকারি কলেজের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ শাহজাহান কবীরকে সিলেট শিক্ষা বোর্ডের নতুন সচিব হিসেবে প্রেষণে পদায়ন করা হয়। একই প্রজ্ঞাপনে বর্তমান সচিব অধ্যাপক চৌধুরী মামুন আকবরকে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) ওএসডি করে এমসি কলেজে সংযুক্ত করার আদেশ দেওয়া হয়েছিল।
তবে অবিশ্বাস্য নাটকীয়তার জন্ম দিয়ে প্রজ্ঞাপনের মাত্র কয়েক ঘণ্টার মাথায়, সোমবার (২৭ জুলাই) সকালেই আরেকটি আদেশ জারি করে আগের রাতের পদায়নটি সম্পূর্ণ বাতিল করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে চূড়ান্ত এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে কী কারণ ছিল, তা নবীন প্রজ্ঞাপনে রহস্যজনকভাবে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, একই পদে রদবদল নিয়ে এমন লুকোচুরি ও নাটকীয়তা এর আগেও ঘটেছে। এর পূর্বে বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. তারিকুল ইসলামকে সচিব পদে পদায়ন করে চৌধুরী মামুন আকবরকে মৌলভীবাজার সরকারি মহিলা কলেজে বদলির আদেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেবারও প্রায় এক মাস ঝুলিয়ে রাখার পর কোনো অজানা কারণে বদলির আদেশটি বাতিল করে দেয় মন্ত্রণালয়।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ২ জুন ‘সিলেটে আওয়ামী লীগের ‘এজেন্ডা বাস্তবায়নকারী’ এখনো শিক্ষা বোর্ডের সচিব পদে!’ শীর্ষক একটি বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে দৈনিক সবুজ সিলেট। ওই প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। এর ধারাবাহিকতাতেই গত ২৬ জুলাই রাতে প্রজ্ঞাপন জারি করে বর্তমান সচিব চৌধুরী মামুন আকবরকে মাউশিতে ওএসডি করার আদেশের খবর এসেছিল। কিন্তু ২৪ ঘণ্টা পার হওয়ার আগেই আবারো সেই
একই কর্মকর্তাকে বারবার বদলি করা এবং রহস্যজনক কারণে প্রতিবারই তা রহিত হওয়ার পেছনের প্রকৃত নেপথ্য কাহিনি ও 'অদৃশ্য কারসাজি' উন্মোচনে ইতিমধ্যেই অনুসন্ধানে নেমেছে দৈনিক সবুজ সিলেট।
এ বিষয়ে জানতে সিলেট শিক্ষা বোর্ডের সচিব অধ্যাপক চৌধুরী মামুন আকবরের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য বোর্ডে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে মুঠোফোনে কল দেওয়া হলে তিনি জানান, তিনি ও বোর্ডের অন্যান্য কর্মকর্তারা মিলে নতুন গাড়ির ট্রায়াল দিচ্ছেন। তবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি। সাংবাদিককে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, “আপনি অফিসে আসলে আমি সব কাগজপত্র দেখাবো।”
(পরের পর্ব দেখতে চোখ রাখুন দৈনিক সবুজ সিলেটে)