সিলেটের ওসমানীনগরে পূর্ববিরোধের জেরে এক যুক্তরাজ্য প্রবাসীর বাড়িতে সশস্ত্র হামলা, ব্যাপক ভাঙচুর, স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ১৪ জনের নাম উল্লেখসহ আরও ১০-১২ জনকে অজ্ঞাতনামা অভিযুক্ত করে ওসমানীনগর থানায় মামলা দায়ের করা হয়। ঘটনার এক সপ্তাহ পার হলেও কোনো অভিযুক্ত গ্রেপ্তার না হওয়ায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে ভুক্তভোগী পরিবার।
শুক্রবার (১৯জুন) রাতে থানায় মামলা দায়ের করেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী রুহেল মিয়া তালুকদারের ভাগনে জসিম উদ্দিন রিয়াদ। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মামার বাড়িতে বসবাস করে আসছেন।
এদিকে, হামলা ভাংচুরের একটি সিসিটিভির ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ হলে এ ঘটনার দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহনে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা। রাতের আঁধারে এমন ন্যক্কারজনক হামলারও প্রতিবাদ জাানিয়েছেন তারা।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার তাজপুর ইউনিয়নের রঙ্গিয়া গ্রামের যুক্তরাজ্য প্রবাসী রুহেল মিয়া তালুকদার স্ব-পরিবারে যুক্তরাজ্যে বসবাস করায় তার বোন মোছাঃ সামিয়া বেগম, নাসিমা বেগম তার বাড়িতে বসবাস করে আসছিলেন। প্রবাসী রুহেল মিয়া তালুকদারের সাথে স্থানীয় একই গ্রামের আনোয়ার আলীর দীর্ঘদিন থেকে পূর্ববিরোধ ছিল। এর জেরে গত ১৭ জুন দিবাগত রাত সাড়ে ১১ টার দিকে ওই বাড়িতে সবাই ঘুমিয়ে গেলে হঠাৎ ঘরের দরজা-জানালা, গ্রিল, কোলাপসিবল গেইটে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ভাঙচুরের শব্দে ঘুম ভাংগে তাদের।
এসময় তারা বৈদ্যুতিক লাইটের আলোতে দেখতে পান আনোয়ার আলীর নেতৃত্বে কয়েকজন ধারালো দা, রামদা, চাইনিজ কুড়াল, লোহার রড, লোহার শাবল, পাইপসহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সংঘবদ্ধভাবে বাড়িতে হামলা চালিয়ে ক্ষয়ক্ষতি করছেন। ঘরের বাইরে বিভিন্ন স্থানে লাগানো সিসিটিভি ক্যামেরা ভাংচুর পশ্চিম বসত ঘরের দরজা-জানালা, গ্রিল, কেসি গেইটসহ বিভিন্ন স্থানে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে হামলা চালাচ্ছেন।
এসময় কয়েকজন পূর্বের বসত ঘরের তালা ভেঙ্গে গেইট খুলে ভিতরে প্রবেশ করে ৪টি জানালার গ্লাসসহ বেডরুমের কাঠের দরজার লক ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র ভাংচুর করে প্রায় দেড় লক্ষ টাকার ক্ষতি সাধন করে।
পরে পশ্চিম বসত ঘরের প্রধান গেইটের তালা ভেঙে বসত ঘরের ভিতর প্রবেশ করে। কয়েকটি রুমের আলমারির ড্রয়ারে থাকা মহিলাদের ব্যবহৃত ১২ ভরি স্বর্ণালংকার, যাহার মূল্য অনুমান ২৮ লক্ষ ৮০হাজার টাকা এবং নগদ ৪ লক্ষ,৫০ হাজার টাকা লুটপাট করা হয়। এসময় ঘরে থাকা গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র ভাংচুর করে আরো ২০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি করা হয়।
ঘটনার খবর মসজিদের মাইকে প্রচার হলে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসতে শুরু করলে বিভিন্ন ধরণের হুমকি-ধমকি দিয়ে পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা। এই ঘটনায় ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে ও আরো ১০/১২জনকে অজ্ঞাত অভিযুক্ত করে ওসমানীনগর থানায় মামলা দায়ের করা হয়।
এই বিষয়ে অভিযুক্ত আনোয়ার আলীর সাথে যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।
মামলার বাদী জসিম উদ্দিন রিয়াদ বলেন, আনোয়ার আলীর নেতৃত্বে হামলা ভাংচুর, স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ লুটপাটের ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করলেও কোনো অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়নি। অভিযুক্তরা বিভিন্ন ভাবে মামলা তুলে নিতে হুমকি দিচ্ছে। অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জন্য পুলিশ প্রশাসনের সু-দৃষ্টি কামনা করছি।
ওসমানীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মুরশেদুল আলম ভূইয়া বলেন, এই ঘটনায় একজন তদন্তকারী অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।