‘আইনের চোখে সবাই সমান’ -রাষ্ট্রের এই মৌলিক নীতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে প্রকাশ্যে সড়ক আইন অমান্যের অভিযোগ উঠেছে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সরকারের যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকারের বিরুদ্ধে। দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তা হয়েও সিলেট এয়ারপোর্ট সড়কে হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল চালানোর ঘটনায় সচেতন মহলে ব্যাপক সমালোচনা ও জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। রেজাই রাফিন সরকার নিজের ফেসবুক আইডিতে তার 'মোটরসাইকেল শো'র একটি ভিডিও আপলোড দিয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সম্প্রতি সিলেট এয়ারপোর্ট সড়কে কোনো ধরনের নিরাপত্তা হেলমেট ছাড়াই মোটরসাইকেল চালাতে দেখা যায় সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকারকে। অথচ দেশের প্রচলিত সড়ক পরিবহন আইন অনুযায়ী মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী উভয়ের জন্য হেলমেট ব্যবহার বাধ্যতামূলক। আইন অমান্য করলে জরিমানা ও অন্যান্য শাস্তির বিধানও রয়েছে। কিন্তু সাধারণ নাগরিকদের আইন মানতে বাধ্য করা প্রশাসনের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার কাছ থেকেই যখন এমন প্রকাশ্য আইন লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটে, তখন তা শুধু দায়িত্বহীনতার নয়- আইনের প্রতি অবজ্ঞারও বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন অনেকে। ঘটনার পর সিলেটজুড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও নাগরিক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
সচেতন নাগরিকদের ভাষ্য- সাধারণ মানুষ হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল চালালে তাৎক্ষণিক মামলা ও জরিমানার মুখোমুখি হতে হয়, কিন্তু সরকারি কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে কেন ভিন্ন চিত্র? একজন যুগ্ম সচিব যদি নিজেই আইন না মানেন, তাহলে সাধারণ মানুষ কী বার্তা পাবে? আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সামনেই এমন ঘটনা ঘটলেও কোনো ব্যবস্থা না নেওয়া আইন প্রয়োগের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
সুশাসন ও আইনের শাসনের মূল ভিত্তি হলো- আইন সবার জন্য সমানভাবে কার্যকর হওয়া। রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল পদে থাকা ব্যক্তিদের কাছ থেকে আরও বেশি দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশা করে জনগণ। সরকারি পদ কোনোভাবেই আইন অমান্যের ‘অঘোষিত ছাড়পত্র’ হতে পারে না। সাধারণ নাগরিকদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হলেও একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নীরবতা জনমনে হতাশা তৈরি করছে। এতে জনগণের মধ্যে “আইন কি শুধু সাধারণ মানুষের জন্য?” -এমন প্রশ্ন আরও জোরালো হচ্ছে।
সচেতন মহল মনে করছে, এ ধরনের ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে আইনের প্রতি মানুষের আস্থা দুর্বল হবে। তাই সড়ক পরিবহন আইন অনুযায়ী ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়েছে।