মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
✔ বাংলা টেক্সট কনভার্টার
শিরোনাম
advertisement
রাজনীতি

রাজনীতিতে নারীর পাইপলাইন গড়ার তাগিদ জাইমা রহমানের

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান বলেছেন, নীতিনির্ধারণের সময় নারীরা যদি সিদ্ধান্ত গ্রহণের টেবিলে না থাকেন, তাহলে সেই নীতির বাস্তব প্রয়োগেও ঘাটতি থেকে যায়। নারীদের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গি ছাড়া কোনো টেকসই রোডম্যাপ তৈরি সম্ভব নয়।

রোববার রাজধানীর পুরাতন এলিফ্যান্ট রোডে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) অডিটরিয়ামে উইমেন ইন ডেমোক্রেসি (উইনড)-এর উদ্যোগে আয়োজিত ‘গণতন্ত্রের সংগ্রামে নারী: অবদান, দায় ও দায়িত্ব’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

জাইমা রহমান বলেন, রাজনৈতিক অংশগ্রহণের পথে নারীদের জন্য বহু কাঠামোগত ও প্রাতিষ্ঠানিক বাধা এখনো বিদ্যমান। উদাহরণ হিসেবে তিনি কর্মজীবী নারীদের জন্য ডে-কেয়ার সুবিধার বিষয়টি তুলে ধরেন। তাঁর ভাষায়, ডে-কেয়ার কেবল একটি খেলাঘর হলে চলবে না; সেখানে প্রশিক্ষিত জনবল, পর্যাপ্ত জায়গা, শিশুদের বয়সভিত্তিক যত্ন, পুষ্টিকর খাবার এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য আলাদা ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে হবে। এসব না থাকলে একজন মা নির্বিঘ্নে কাজ কিংবা রাজনীতিতে যুক্ত হতে পারেন না।

তিনি আরও বলেন, ছাত্ররাজনীতি থেকে শুরু করে স্থানীয় সরকার হয়ে জাতীয় পর্যায়ে নেতৃত্বে উঠে আসার জন্য নারীদের একটি শক্ত, কার্যকর ও টেকসই ‘পাইপলাইন’ তৈরি করা জরুরি। তবে শুধু পাইপলাইন তৈরি করলেই হবে না, সেটিকে নিয়মিত ধরে রাখা ও সংস্কার করাও প্রয়োজন। অন্যথায় যোগ্য ও নেতৃত্বগুণসম্পন্ন নারীরা সুযোগ হারাবেন।

মেন্টরশিপ ও প্রশিক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরে জাইমা রহমান বলেন, রাজনীতি ও সিভিক ডিউটির ক্ষেত্রে নারীদের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক মেন্টরশিপ প্রোগ্রাম থাকা অপরিহার্য। অভিজ্ঞ রাজনৈতিক ও পেশাজীবীদের দিকনির্দেশনা ছাড়া তরুণ নারীদের জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া ও এগিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোকেই দায়িত্ব নিতে হবে।

নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণে অর্থায়নকে বড় বাধা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাজনীতি ও নির্বাচনী কার্যক্রমে অর্থ একটি বাস্তবতা, যেখানে স্পষ্ট বৈষম্য রয়েছে। এই বাস্তবতা স্বীকার করেই নারী নেত্রীদের জন্য বিশেষ আর্থিক সহায়তা ও সুযোগ বাড়াতে হবে। আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে রাজনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণও বাড়বে।

নিরাপত্তা ও সুরক্ষার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রতিটি রাজনৈতিক দলের নিজস্ব কোড অব কনডাক্ট কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। কোনো নারী নেত্রী বা ছাত্রীনেত্রী হয়রানি কিংবা হুমকির শিকার হলে দলকে দায়িত্ব নিয়ে তার পাশে দাঁড়াতে হবে এবং আইনি ও নৈতিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।

জাইমা রহমান বলেন, নারীর ক্ষমতায়নে বিনিয়োগ একবারের জন্য নয়; এটি হতে হবে ধারাবাহিক ও দীর্ঘমেয়াদি। যেখানে বৈষম্য রয়েছে, সেখানে সমতা আনতে অতিরিক্ত উদ্যোগ প্রয়োজন। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, মুক্তিযোদ্ধা ও নাগরিক সমাজ—সবাই একসঙ্গে বিনিয়োগ করলে একটি ন্যায্য, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়া সম্ভব।

এই সম্পর্কিত আরো