বুধবার, ২১ জানুয়ারি ২০২৬
বুধবার, ২১ জানুয়ারি ২০২৬
✔ বাংলা টেক্সট কনভার্টার
শিরোনাম
ভোট ও গণভোট একসঙ্গে, উৎসবমুখর পরিবেশে অংশ নেবে জনগণ : ধর্ম উপদেষ্টা চুনারুঘাটে সেনাবাহিনীর অভিযানে ৩ মাদক ব্যবসায়ী আটক নেহার ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট ঘিরে আলোচনা ফ্রান্স যুবদল নেতা অয়েছ আজিজুর রহমানের বাংলাদেশ প্রত্যাবর্তনে সংবর্ধনা পলিসি সামিট অনুষ্ঠানে - ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতিতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণের ঘোষণা জামায়াতের সুনামগঞ্জ-১ আসনের জামায়াত প্রার্থীকে কার্যালয়ে অবরুদ্ধ আমি আপনাদের সন্তান, আপনাদের ভাই: এম এ মালিক কচকট খাঁ ট্রাস্টের উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের বৃত্তি নির্বাচনের আগে দ্রুত লুটের অস্ত্র উদ্ধারের নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার কুলাউড়ায় চা-শ্রমিকসহ শতাধিক মানুষের মাঝে শুভসংঘের শীতবস্ত্র বিতরণ
advertisement
রাজনীতি

১৬ বছর বাংলাদেশ যেন ‘কালো মেঘের নিচে চাপা’ পড়ে ছিল : তারেক রহমান

১৬টা বছর ধরে বাংলাদেশ যেন একটা ‘কালো মেঘের নিচে চাপা’ পড়ে ছিল বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

বুধবার সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে তিনি এই মন্তব্য করেন।

তারেক রহমান বলেন, ‘১৬টা বছর ধরে বাংলাদেশ যেন একটা কালো মেঘের নিচে চাপা পড়ে ছিল। কেউ সেই অন্ধকারকে খুব তীব্রভাবে টের পেয়েছে, কেউ চুপচাপ বয়ে বেড়িয়েছে। কিন্তু যাদের রাজনৈতিক অবস্থান তখনকার পতিত সরকারের বিপরীতে ছিল, তাদের জন্য এই অন্ধকার ছিল নিত্যদিনের বাস্তবতা। রাতের বেলা দরজায় কড়া নাড়া, মিথ্যা মামলা, নির্যাতন, ভয়কে সংস্কৃতি বানিয়ে ফেলা, আর অসংখ্য পরিবার অপেক্ষা করেছে সেই প্রিয়জনদের জন্য, যারা আর কোনোদিন ঘরে ফিরে আসেনি। এই বোঝা বিএনপির চেয়ে বেশি আর কেউ বহন করেনি। বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম, হেফাজতে মৃত্যু, মিথ্যা মামলা— সব জায়গায় বিএনপির নেতাকর্মীরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানেও সবচেয়ে বেশি রক্ত ঝরেছে বিএনপির ঘরেই।’

তিনি আরো বলেন, ‘কিন্তু অত্যাচারের শিকার শুধু বিএনপি ছিল না; ছাত্র, সাংবাদিক, লেখক, পথচারী, সাধারণ মানুষ— সবাই সেই ভয়ংকর পরিবেশের ক্ষত বয়ে বেড়িয়েছে, ন্যূনতম মানবাধিকার হিসেবে বিবেচিত মর্যাদা, নিরাপত্তা, মত প্রকাশের অধিকার এর মত মৌলিক সব বিষয়গুলো ছিল হুমকির মুখে।’

পোস্টে তারেক রহমান লেখেন, ‘এই বছরগুলোতে আমাকেও কথা বলার মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল। ২০১৫ সাল থেকে আমার কথা বলার অধিকার সম্পূর্ণভাবে কেড়ে নেওয়া হয়। দেশের কোনো পত্রিকা, টিভি বা সোশ্যাল মিডিয়ায় যেন আমার কোনো বক্তব্য প্রকাশ না করা হয়, এমন নির্দেশনা জারি ছিল। তবুও এই চাপিয়ে দেওয়া নীরবতার মধ্যেও আমি অধিকার, গণতন্ত্র আর মানুষের ন্যায্য দাবির পক্ষে লড়াই চালিয়ে গেছি, কারণ সত্যের স্পিরিটকে আদেশ দিয়ে থামানো যায় না।’

তিনি বলেন, ‘এই পুরো অন্ধকার সময়টায় দেশনেত্রী খালেদা জিয়া ছিলেন আমাদের ধৈর্য ও প্রতিরোধের সবচেয়ে বড় প্রতীক। মিথ্যা মামলা, কারাবাস, তাকে রাজনৈতিকভাবে নিঃশেষ করে দেওয়ার চেষ্টা— এসবই পুরো দেশের ওপর চাপিয়ে দেওয়া এক কর্তৃত্ববাদী শাসনের প্রতিফলন। তবুও তিনি তাঁর গণতান্ত্রিক আদর্শ থেকে কখনো সরে যাননি। তাঁর বিশ্বাস একটাই— অধিকার সবার; ভয় দেখিয়ে দেশকে এগোনো যায় না।’

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আরো লিখেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবেও সেই দুঃসহ সময়ের সাক্ষী। আমার মা, যিনি দেশনেত্রী, নিজ হাতে সহ্য করেছেন তাঁর ছেলেকে জেলে নেওয়া, নির্যাতন করার মানসিক যন্ত্রণা। তাঁর আরেক ছেলেকে আমরা চিরতরে হারিয়েছি। বাংলাদেশের হাজারো পরিবারের মতো আমাদের পরিবারও ছিল লক্ষ্যবস্তু।’

তিনি বলেন, ‘কিন্তু ইতিহাসের একটা সত্য আছে— কষ্ট মানুষকে সবসময় তিক্ত করে না। কখনো কখনো কষ্ট মানুষকে আরো মহান করে তোলে। দেশনেত্রী, আমার মা এটাই প্রমাণ করেছেন। তিনি শিখিয়েছেন— যে অন্যায় আমরা সহ্য করেছি, তা যেন আর কারও জীবনে না আসে। দেশকে বদলাতে হলে, ঘৃণার পথ নয়, ন্যায়-নৈতিকতা আর ক্ষমাশীলতার পথই ভবিষ্যত গড়ে।’

তারেক রহমান বলেন, ‘আজ বাংলাদেশের প্রয়োজন রাজনীতির চেয়েও বড় কিছু— একটি ঐক্যবদ্ধ দেশ, যেখানে সবার জন্য মানবাধিকারের নিশ্চয়তা থাকবে, যেখানে কথা বলার স্বাধীনতা থাকবে, বিরোধী মত যেখানে হুমকি না হয়ে বরং গণতন্ত্রের অংশ হবে। যেখানে ভিন্ন মতের কারণে কাউকে নিপীড়িত হতে হবে না বা গুম হয়ে যেতে হবে না ‘

বিএনপি সমাধানের পথে বিশ্বাসী মন্তব্য করে তিনি আরো বলেন, ‘বিএনপি আজ প্রতিশোধের রাজনীতি প্রত্যাখ্যান করছে, আমরা সমাধানের পথে বিশ্বাসী। আমরা এই প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি যে, কোনো বাংলাদেশিকে রাষ্ট্রের ভয়ে বাঁচতে হবে না, তা সে সরকারের সমর্থক হোক বা বিরোধী।’

তিনি বলেন, ‘১০ ডিসেম্বর মানবাধিকার দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয়— মানবাধিকারই মানুষের দৈনন্দিন বেঁচে থাকার মৌলিক শর্ত। আমরা আবরার ফাহাদ, মুশতাক আহমেদ, ইলিয়াস আলী, সাজেদুল ইসলাম সুমন, সাগর-রুনি আর অসংখ্য শহীদের গল্প মনে রাখি, যেন ভবিষ্যতে এমন নিপীড়ন আর দায়মুক্তি আর কখনো ফিরে না আসে।’

তারেক রহমান বলেন, ‘বিএনপি মারাত্মক ক্ষতি সহ্য করেছে, কিন্তু ভেঙে যায়নি। বরং সত্য, ন্যায়, জবাবদিহি, পুনর্মিলন, আর আইনের শাসনে বিশ্বাস রেখে আরো দৃঢ় হয়েছে। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে প্রতিটি মানুষের কণ্ঠ, অধিকার ও জীবন মূল্যবান; যেখানে মানবাধিকার আমাদের ভবিষ্যতের ভিত্তি।’

এই সম্পর্কিত আরো

ভোট ও গণভোট একসঙ্গে, উৎসবমুখর পরিবেশে অংশ নেবে জনগণ : ধর্ম উপদেষ্টা

চুনারুঘাটে সেনাবাহিনীর অভিযানে ৩ মাদক ব্যবসায়ী আটক

নেহার ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট ঘিরে আলোচনা

ফ্রান্স যুবদল নেতা অয়েছ আজিজুর রহমানের বাংলাদেশ প্রত্যাবর্তনে সংবর্ধনা

পলিসি সামিট অনুষ্ঠানে ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতিতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণের ঘোষণা জামায়াতের

সুনামগঞ্জ-১ আসনের জামায়াত প্রার্থীকে কার্যালয়ে অবরুদ্ধ

আমি আপনাদের সন্তান, আপনাদের ভাই: এম এ মালিক

কচকট খাঁ ট্রাস্টের উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের বৃত্তি

নির্বাচনের আগে দ্রুত লুটের অস্ত্র উদ্ধারের নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার

কুলাউড়ায় চা-শ্রমিকসহ শতাধিক মানুষের মাঝে শুভসংঘের শীতবস্ত্র বিতরণ