জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দাবিতে সামনে এসেছেন এক শহীদ যোদ্ধার বোন। আন্দোলনের সময় আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত দাবি পূরণের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ‘জুলাই সনদ’ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
তার এই বক্তব্য নতুন করে আলোচনায় এনেছে গণঅভ্যুত্থানের লক্ষ্য, অর্জন এবং এখনো অপূর্ণ থাকা প্রত্যাশাগুলো।
সম্প্রতি গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি নিজের কষ্ট ও হতাশার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, আন্দোলনে অংশ নিয়ে তারা যেন ভুল করেছিলেন এমন অনুভূতি এখন তাদের মনে জেগেছে। ভাই হারানোর বেদনা এবং পরিবারের একমাত্র সহায় হয়ে ওঠার দায় তাকে প্রতিনিয়ত তাড়িয়ে বেড়ায়। ঘর থেকে বের হলেই তার মা উদ্বিগ্ন হয়ে থাকেন, অথচ তাদের পাশে দাঁড়ানোর মতো কাউকে তিনি দেখেন না বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, ভাইয়ের অনুপস্থিতি প্রতিটি মুহূর্তে অনুভব করেন তিনি। একটি ফোনকলের অপেক্ষায় থাকা সেই অভ্যাস এখনো কাটেনি, কিন্তু সেই ফোন আর আসে না। তার ভাষায়, অনেক আশা নিয়ে তারা ‘জুলাই সনদ’ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের অপেক্ষায় ছিলেন, কিন্তু সেই প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ায় হতাশা আরও গভীর হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি সরাসরি আবেদন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘জুলাই সনদ’ ও গণভোটের রায়ের বিষয়টি যেন সংসদে পাশ করা হয়। তার বিশ্বাস, এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর হাতেই রয়েছে এবং তিনি চাইলে বিষয়টি এগিয়ে নিতে পারেন।
ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, একসময় কৃষি ইনস্টিটিউটে তারেক রহমানের সঙ্গে আমার দেখা হয়েছিল, যেখানে তিনি আমাকে ‘বোন’ বলে সম্বোধন করেছিলেন। তবে সেই সম্পর্কের ধারাবাহিকতায় আমাদের পরিবারের খোঁজখবর কেউ নেয়নি বলেও আক্ষেপ প্রকাশ করেন তিনি।
শেষে তিনি গভীর হতাশা প্রকাশ করে বলেন, আন্দোলনের অভিজ্ঞতা তাদের মনে এমন ক্ষত তৈরি করেছে যে ভবিষ্যতে কেউ দেশের জন্য জীবন দিতে এগিয়ে আসবে কি না, তা নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে।