শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬
শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬
✔ বাংলা টেক্সট কনভার্টার
শিরোনাম
advertisement
জাতীয়

দেশের আর্থিক অবস্থা সংসদে জানালেন অর্থমন্ত্রী

জাতীয় সংসদে দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক চিত্র তুলে ধরেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। শুক্রবার তার দেওয়া বিবৃতিতে আর্থিক খাতে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের নানা অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির চিত্র উঠে আসে। বিদায়ি অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালের আর্থিক খাতের চিত্রও বর্ণনা করেন অর্থমন্ত্রী।

মন্ত্রী বলেন, বিগত ১৬ বছরে ফ্যাসিবাদী সরকার অর্থনীতিতে সীমাহীন দুর্নীতি ও লাগামহীন লুটপাটের মাধ্যমে অর্থনীতিকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে দাঁড় করানোর পাশাপাশি সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক খাতকে অকার্যকর করে দিয়েছে। অর্থনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের কারণে হুন্ডি প্রবাহ এবং অর্থ পাচারের কারণে রিজার্ভের পরিমাণ কমে ২০ বিলিয়নে নেমে আসে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় রপ্তানি কিছুটা বাড়লেও আমদানি প্রবৃদ্ধি কমে এসেছে এবং রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

তিনি বলেন, বিগত স্বৈরাচার সরকারের সময় যে রেমিট্যান্সগুলো বন্ধ ছিল, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তা বেড়েছে। এই রেমিট্যান্স না বাড়লে এই সরকারের সময়ে অর্থনীতি ম্যানেজ করা খুবই কঠিন হতো। কারণ আমরা যখন দায়িত্ব নিয়েছি, তখন সবগুলো অর্থনৈতিক সূচক নিম্নগামী ছিল।

তিনি বলেন, বিগত সরকারের আমলে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির জনগোষ্ঠীকে ভাতা প্রদান করা হলেও এর আগে ভাতার পরিমাণ মূল্যস্ফীতি রেখে যৌক্তিকীকরণ করা হয়নি, এতে উপকারভোগীরা অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের বাইরে থেকে গেছে, যা ক্রমে বৈষম্যকে বাড়িয়ে দিয়েছে। উপকারভোগী নির্বাচনও দলীয়করণ ও দুর্নীতির প্রমাণ অজস্র।

মন্ত্রী বলেন, বাজার ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণ কাঠামো দুর্বলতার কারণে অনেক ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে। বাজার সিন্ডিকেট দুর্নীতির স্বর্গরাজ্য হিসেবে এ পরিস্থিতিকে আরো নাজুক করেছে।

মন্ত্রী তার বিবৃতিতে সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী নেওয়া পদক্ষেপগুলোও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দক্ষ ঋণ ব্যবস্থাপনায় গুরুত্ব প্রদান করেছে। ঘাটতি অর্থায়নের বিকল্প ও সহজ শর্তে বৈদেশিক উৎস এবং মূলধন বাজার উন্নয়ন গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করছে। ঘাটতি অর্থায়ন ও এর উৎসের মধ্যে সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে ঋণ গ্রহণ ও ঋণের ঝুঁকি হ্রাসের দিকে নজর দিচ্ছে। উন্নয়ন প্রকল্পে রাজস্ব খাত থেকে অর্থায়ন বাড়িয়ে ঋণনির্ভরতা কমানো এবং জিডিপির উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জনের মাধ্যমে ক্রমান্বয়ে ঋণ-জিডিপি অনুপাত কমিয়ে আনা এবং ফিসক্যাল স্পেস তৈরির মাধ্যমে সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে টেকসই করা হবে।

তিনি বলেন, মূলধন গঠনে ব্যাংকিং খাতের পরিবর্তে পুঁজিবাজারকে গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় কাঠামোগত সংস্কারের বিষয়ে আমরা নির্বাচনি ইশতেহারে স্পষ্টভাবে দিকনির্দেশনা দিয়েছি, যা বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বাজারে বিনিয়োগকারীদের ফিরিয়ে আনতে বিএসইসিকে প্রকৃত স্বাধীনতা দেওয়া হবে এবং বাজার কারসাজির বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গত ১৫ বছরের অনিয়ম তদন্তে বিশেষ কমিশন গঠন করা হবে।

নিয়োগ, উৎপাদন, কর্মসংস্থান, ভোগ ও রাজস্বের স্বাভাবিক চক্রকে সচল করার মাধ্যমে সরকার ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি উন্নত অর্থনীতিতে পরিণত করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, জনগণ আমাদের ওপর আস্থা রেখে আমাদের নির্বাচিত করেছে এবং সেই আস্থার প্রতিফলন ঘটানোই হবে এই সরকারের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য।

এই সম্পর্কিত আরো