বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬
বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬
✔ বাংলা টেক্সট কনভার্টার
শিরোনাম
advertisement
জাতীয়

২৫ মার্চের কালরাত আজ

আজ ২৫ মার্চ, ভয়াল কালরাত এবং জাতীয় গণহত্যা দিবস। ১৯৭১ সালের এ রাতেই পৃথিবীর ইতিহাসের নৃশংসতম হত্যাযজ্ঞ ঘটেছিল এ দেশে। মধ্যরাতে বর্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী অত্যাধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ঢাকাসহ সারা দেশে নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।

২৫ মার্চের গণহত্যা শুধু এক রাতের হত্যাকাণ্ড ছিল না, মূলত এটা ছিল বিশ্ব সভ্যতার জন্য এক কলঙ্কজনক গণহত্যার সূচনামাত্র। পরের ৯ মাসে একটি জাতিকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার লক্ষ্যে লাখ লাখ নিরপরাধ নারী-পুরুষ ও শিশুকে হত্যার মধ্য দিয়ে বর্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী পূর্ণতা দিয়েছিল সেই ঘৃণ্য ইতিহাসকে।

এদিকে, আজ বুধবার যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে সারা দেশে গণহত্যা দিবস পালন করা হবে। এ উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী বাণী দিয়েছেন।

এদিন দেশের সব স্কুল-কলেজ, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিশিষ্ট ব্যক্তি ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে ২৫ মার্চের গণহত্যা ও মহান মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে স্মৃতিচারণ ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হবে।

এছাড়া আজ দুপুর ১২টা থেকে ঢাকাসহ দেশের সব সিটি করপোরেশন এলাকায় মিনিপোলগুলোয় গণহত্যাবিষয়ক বস্তুনিষ্ঠ ও নৈর্ব্যক্তিক দুর্লভ আলোকচিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে।

এদিন বাদ জোহর বা সুবিধাজনক সময়ে ২৫ মার্চ রাতে নিহতদের স্মরণে সারা দেশের মসজিদে বিশেষ মোনাজাত এবং বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা করা হবে। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাত স্মরণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) আজ বুধবার ‘গণহত্যা দিবস’ পালন করবে। এ উপলক্ষে উপাচার্যের বাসভবনসংলগ্ন স্মৃতি চিরন্তন চত্বরে আজ সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় মোমবাতি প্রজ্বালন ও শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন, সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে ডকুমেন্টারি প্রদর্শন এবং ৭টা ৩৫ মিনিটে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করবেন।

ভয়াল কালরাতে পাকিস্তানি বাহিনীর হত্যাযজ্ঞ সম্পর্কে অস্ট্রেলিয়ার ‘সিডনি মর্নিং হেরাল্ড’ পত্রিকার ভাষ্যমতে, শুধু ২৫ মার্চ রাতেই বাংলাদেশে প্রায় এক লাখ মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল, যা গণহত্যার ইতিহাসে জঘন্যতম ভয়াবহ ঘটনা। পরের ৯ মাসে একটি জাতিকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার লক্ষ্যে ৩০ লাখ নিরপরাধ নারী-পুরুষ ও শিশুকে হত্যার মধ্য দিয়ে বর্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসররা পূর্ণতা দিয়েছিল সেই ঘৃণ্য ইতিহাসকে। তাদের সংঘটিত গণহত্যা, ধর্ষণ, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগ- সবই ১৯৪৮ সালের ১১ ডিসেম্বর জাতিসংঘ গৃহীত ‘জেনোসাইড কনভেনশন’ শীর্ষক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তে বর্ণিত সংজ্ঞায় গণহত্যার চূড়ান্ত উদাহরণ। তবে মার্কিন সাংবাদিক রবার্ট পেইন ২৫ মার্চ রাত সম্পর্কে লিখেছেন, ‘সে রাতে সাত হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়, গ্রেপ্তার হয় আরো তিন হাজার লোককে।’

সামরিক ভাষায় ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে পরিচিত ছিল পাকিস্তানি হানাদারদের এ হত্যার অভিযান। শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ এড়িয়ে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া বাঙালি হত্যার নীলনকশা বাস্তবায়নের পথেই এগিয়েছিলেন। অত্যাচার, নিপীড়ন, পাশবিকতা, নৃশংসতা আর হিংস্রতার কালো থাবায় বিভীষিকা ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল পুরো ঢাকা শহরে। ২০১৭ সালের ১১ মার্চ জাতীয় সংসদে ২৫ মার্চকে ‘জাতীয় গণহত্যা দিবস’ পালনের প্রস্তাব সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়।

বর্বরোচিত ওই হামলায় বিশ্ববাসী হতবাক হয়ে দেখেছিল উন্মত্ত পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যা। মধ্যযুগীয় কায়দায় হানাদাররা রাজারবাগ পুলিশ লাইনস, পিলখানা ইপিআর সদর দপ্তর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ গোটা ঢাকা শহরে চালায় হত্যাযজ্ঞ, করে অগ্নিসংযোগ। ড. গোবিন্দচন্দ্র দেব, ড. জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতা, অধ্যাপক সন্তোষ ভট্টাচার্য, ড. মনিরুজ্জামানসহ ৯ শিক্ষককে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হয়। ওই রাতেই গ্রেপ্তার করা হয় মুক্তি সংগ্রামের নেতা শেখ মুজিবুর রহমানকে।

২৫ মার্চের কালরাতের বেদনাদায়ক ঘটনা পুরো জাতিকে শিহরিত করে। নিরীহ-নিরস্ত্র মানুষকে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে পাখির মতো হত্যা করে। সেদিন মুক্তিকামী মানুষের কণ্ঠ স্তব্ধ করা যায়নি। ভয়াবহ সেই কালরাতের হত্যাযজ্ঞ বাঙালিকে মুক্তির সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়তে প্রেরণা জোগায়। পরদিন ২৬ মার্চ মেজর জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। এভাবে দীর্ঘ ৯ মাসের যুদ্ধে লাখো বাঙালির আত্মত্যাগে অর্জিত হয় স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ।

এই সম্পর্কিত আরো