নির্বাচনের মাধ্যমে পুলিশ তার আত্মমর্যাদা ফিরে পেয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ফরেন সার্ভিস একাডেমির মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
প্রেস সচিব বলেন, ‘এবার এমন একটা নির্বাচন হয়েছে, যে নির্বাচনের মধ্যদিয়ে দেশে গুম-খুনের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত দল এবং জুলাই বিপ্লবের নেতৃত্বদানকারীরা বিরোধী দলের প্রতিনিধিত্ব করবেন। আর এবারই প্রথম একটি নির্বাচন হয়েছে যে নির্বাচনের পর সংখ্যালঘুদের ওপর কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি। আমি আশা করব আমাদের সাংবাদিক বন্ধুরা এ বিষয়ে দৃষ্টি রাখবেন।’
ইলেকশনে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তিনি বলেন, ‘আজ ক্যাবিনেট অবজার্ভ করে যে, এই ইলেকশনের মাধ্যমে পুলিশ তার আত্মমর্যাদা ফিরে পেয়েছে। আপনারা জানেন, পুলিশ জুলাই-আগস্ট ২০২৪-এ তাদের রোলের কথা। আমি আবার নতুন করে বলতে চাচ্ছি না। কিন্তু অনেকে বলতেন যে, পুলিশের কনফিডেন্স লো। এই পুলিশকে দিয়ে কি আদৌ আমরা একটা ভালো ইলেকশন দেখতে পাব কি না? এই ধরনের আলাপটা ছিল। আপনারা দেখেছেন যে, তারা যথেষ্ট ভালো রোল প্লে করেছে।’
শফিকুল আলম বলেন, ‘প্রথমবারের মতো খুব বড় একটা ইউজ হয়েছে বডি ওর্ন ক্যামেরা। প্রধান উপদেষ্টা নিজে পুলিশ হেডকোয়ার্টারে বসে দেড় ঘণ্টার মতো অবজার্ভ করেছেন। তিনি সরাসরি ১৭টি কেন্দ্রে কথা বলেছেন। ক্যাবিনেট আশা করে যে, এটার আরও যখন বিস্তৃত ডেপ্লয়মেন্ট হবে সামনের ইলেকশনগুলোয়, এটা আরও ভালো রেজাল্ট দেবে। তারপর সুরক্ষা অ্যাপ ছিল, সেটা ইলেকশন যারা কনডাক্ট করে তাদের কো-অর্ডিনেশনের জন্য খুবই ভালো কাজে দিয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘সিসিটিভি খুব হেল্পফুল ছিল। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা তার বক্তব্যে বলেন, ইলেকশনের পরে চারজনের মৃত্যুর কথা জানা যাচ্ছে। তার মধ্যে সত্যিকার অর্থে ইলেকশন রিলেটেড ভায়োলেন্সে মারা গেছেন একজন। আর হাতিয়ার যে মেয়েটির বিষয়, সেটির বিষয়ে তিনি বলেছেন, এই বিষয়ে একটা তদন্ত কমিটি করে দেওয়া হচ্ছে। পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে দেখবেন ও ইনভেস্টিগেট করবেন।’
তিনি আরও বলেন, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার দেওয়ায় উপদেষ্টা পরিষদকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। নির্বাচন কমিশনের পারফরম্যান্সেও খুশি উপদেষ্টা পরিষদ। তাদেরও ধন্যবাদ জানানো হয়েছে।
এদিকে নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে সার্কভুক্ত সব দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানান প্রেস সচিব।