রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
✔ বাংলা টেক্সট কনভার্টার
শিরোনাম
advertisement
আন্তর্জাতিক

শপথ অনুষ্ঠানে আসছেন না নরেন্দ্র মোদি

বাংলাদেশের নতুন সরকারের মন্ত্রিপরিষদের শপথ অনুষ্ঠানে আসছেন না ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি আসতে না পারলেও দেশটির গুরুত্বপূর্ণ এক মন্ত্রী অবশ্য শপথ অনুষ্ঠানে আসছেন। ঢাকার নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র কালবেলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। এর আগে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে মোদিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। এদিকে শপথ অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ উপস্থিত থাকতে পারেন বলে জানা গেছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান হতে যাচ্ছে। নতুন মন্ত্রিসভার শপথের আনুষ্ঠানিকতায় যুক্ত হতে ইতোমধ্যে সার্কভুক্ত দেশসহ কয়েকটি দেশের সরকার প্রধানকে আমন্ত্রণপত্র পাঠিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে ভারতের এআই ইম্প্যাক্ট সামিটের জন্য শপথে আসছেন না নরেন্দ্র মোদি।

বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে অন্তর্বর্তী সরকার বিভিন্ন দেশের সরকার প্রধানকে আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত নেয়। কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত আমন্ত্রিত দেশের তালিকায় রয়েছে চীন, সৌদি আরব, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, মালয়েশিয়া, ব্রুনেই, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ ও সার্কভুক্ত দেশগুলো। গত শুক্রবার বিএনপির বিজয়ের পর তারেক রহমানকে ফোন করে অভিনন্দন জানিয়ে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত দেন মোদি।

নির্ভরযোগ্য সূত্র বলছে, দিল্লিতে এআই ইমপ্যাক্ট সামিটে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান ও প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন এবং কয়েকটি দেশের সরকারপ্রধানদের সঙ্গে সাইডলাইন বৈঠকে অংশ নেবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। এ ব্যস্ততার কারণে ঢাকায় আসছেন না মোদি।

তবে সূত্র জানিয়েছে, প্রতিনিধি হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর আসতে পারেন। এর আগে বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় ভারতের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ঢাকায় আসেন।

২৪ প্রেক্ষাপটে ড. ইউনূস সরকার দায়িত্ব নিলে ভারতের সাথে সম্পর্কের টানাপড়েন দেখা দেয়। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন নিজে কয়েকবার গণমাধ্যমকে বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। সর্বশেষ পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বিদায়ী ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বলেন, এ সরকার অনেকবার চেষ্টা করেও ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক করতে পারেনি। ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক এখন থমকে রয়েছে। নতুন সরকার এলে সম্পর্ক ‘মসৃণ হবে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেওয়ায় দেশটির সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের সুসম্পর্ক হয়নি। তবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আগমন দূরত্ব কিছুটা কমিয়েছিল। সে প্রেক্ষাপটে ধারণা করা হচ্ছে, নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে ভারতের উচ্চপদস্থ কোনো মন্ত্রীর আগমন দুদেশের থমকে যাওয়া সম্পর্ক পুনরুদ্ধারে সহায়ক হবে।

এই সম্পর্কিত আরো