শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
✔ বাংলা টেক্সট কনভার্টার
শিরোনাম
advertisement
আন্তর্জাতিক

‘প্যালেস্টাইন অ্যাকশন’-এর ওপর সন্ত্রাসী তকমা অবৈধ: যুক্তরাজ্যের উচ্চ আদালত

যুক্তরাজ্যের উচ্চ আদালত ‘প্যালেস্টাইন অ্যাকশন’-কে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণার সরকারি সিদ্ধান্তকে অবৈধ বলে রায় দিয়েছে। দীর্ঘ কয়েক মাসের আইনি লড়াইয়ের পর শুক্রবার লন্ডনের উচ্চ আদালতে এই গুরুত্বপূর্ণ রায় ঘোষণা করা হয়।

রায় প্রদানকালে বিচারপতি ভিক্টোরিইয়া শার্প বলেন, সরকারের এই নিষেধাজ্ঞা বাকস্বাধীনতা ও সমাবেশের অধিকারের ওপর “অত্যন্ত গুরুতর হস্তক্ষেপ” সৃষ্টি করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণার সিদ্ধান্ত আইনসম্মত ছিল না।

এই রায়টি আসে ‘প্যালেস্টাইন অ্যাকশন’-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা হুদা আম্মোরির দায়ের করা একটি বিচারিক পুনর্বিবেচনা (জুডিশিয়াল রিভিউ) আবেদনের প্রেক্ষিতে। ২০২৫ সালের জুলাই মাসে ব্রিটিশ সরকার সংগঠনটিকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। ওই নিষেধাজ্ঞা অনুযায়ী সংগঠনের সদস্যপদ গ্রহণ, প্রকাশ্যে সমর্থন জানানো বা তাদের প্রতীক প্রদর্শন করা ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হতো এবং এর জন্য সর্বোচ্চ ১৪ বছরের কারাদণ্ডের বিধান ছিল।

নিষেধাজ্ঞা জারির পর যুক্তরাজ্যজুড়ে শতাধিক মানুষ সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে গ্রেপ্তার ও অভিযুক্ত হন।

সরকারি নিষেধাজ্ঞার পেছনে কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়, গাজায় চলমান যুদ্ধের প্রতিবাদে কর্মীরা দক্ষিণ ইংল্যান্ডের একটি বিমানঘাঁটিতে প্রবেশ করে দুটি বিমানের প্রায় ৭ মিলিয়ন পাউন্ড (৯.৩ মিলিয়ন ডলার) ক্ষতি সাধন করেছেন বলে অভিযোগ।

আদালতে দাখিল করা লিখিত যুক্তিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, “কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে সহিংসতা না হলেও, গুরুতর সম্পত্তি ক্ষতির ঘটনা সন্ত্রাসবাদ হিসেবে গণ্য হতে পারে।” তারা আরও যুক্তি দেয়, নিষিদ্ধ সংগঠনগুলোকে “প্রচার ও আর্থিক সহায়তার অক্সিজেন” থেকে বঞ্চিত করাই আইনের উদ্দেশ্য।

অন্যদিকে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আইনজীবী নাতাশা বার্নস আদালতে দাবি করেন, এই নিষেধাজ্ঞা ফিলিস্তিনি জনগণের পক্ষে বা গাজায় ইসরাইলের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে অংশ নেওয়া থেকে কাউকে বিরত করেনি।

উচ্চ আদালতের এই রায়ের ফলে ‘প্যালেস্টাইন অ্যাকশন’-এর ওপর আরোপিত সন্ত্রাসী তকমা প্রত্যাহার হলো এবং সংগঠনটির বিরুদ্ধে নেওয়া সরকারি পদক্ষেপ নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্কের সূচনা হয়েছে।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

এই সম্পর্কিত আরো