রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
✔ বাংলা টেক্সট কনভার্টার
শিরোনাম
advertisement
মুক্তমত

পবিত্র নগরী মদিনা ও মসজিদে নববী, লাখো হৃদয়ের আকর্ষণ

সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মদিনায় অবস্থিত মসজিদে নববী—ইসলামের ইতিহাস, আধ্যাত্মিকতা ও ভালোবাসার এক অনন্য প্রতীক। প্রতিবছর হজ ও ওমরাহ মৌসুমে বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে লাখ লাখ মুসল্লি এখানে সমবেত হন। কেউ আসেন ইবাদতের টানে, কেউ ইতিহাসের সাক্ষী হতে, আবার কেউ আসেন প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর স্মৃতিবিজড়িত এই পবিত্র ভূমির স্পর্শ পেতে।

ইতিহাসের আলোয় আলোকিত
মসজিদে নববী প্রতিষ্ঠিত হয় মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর হাত ধরে ৬২২ খ্রিষ্টাব্দে, হিজরতের পরপরই। এটি ইসলামের দ্বিতীয় পবিত্রতম মসজিদ—প্রথমটি হলো মসজিদুল হারাম। ছোট একটি খেজুরগাছের ছাউনির মসজিদ থেকে আজকের বিশাল স্থাপত্যে রূপ নেওয়া—এই দীর্ঘ পথচলায় জড়িয়ে আছে খিলাফতে রাশেদা থেকে শুরু করে উমাইয়া, আব্বাসীয়, উসমানীয় এবং আধুনিক সৌদি শাসকদের নানা সম্প্রসারণ ও সংস্কার।

সবুজ গম্বুজ ও রওজা শরীফ
মসজিদে নববীর সবচেয়ে পরিচিত প্রতীক হলো সবুজ গম্বুজ, যার নিচে অবস্থিত মহানবী (সা.)-এর রওজা মুবারক। এখানেই সমাহিত আছেন খলিফা হজরত আবু বকর (রা.) ও হজরত উমর (রা.)। মুসল্লিদের জন্য অত্যন্ত আকাঙ্ক্ষিত স্থান ‘রিয়াজুল জান্নাহ’—মিম্বর ও রওজার মধ্যবর্তী অংশ—যা হাদিসে জান্নাতের বাগানের অংশ হিসেবে বর্ণিত।

এই স্থানটিতে নামাজ আদায় ও দোয়া করার সুযোগ পাওয়াকে জীবনের পরম সৌভাগ্য মনে করেন অনেকেই। তাই রওজা শরীফ জিয়ারত করতে প্রতিদিনই দেখা যায় শৃঙ্খলাবদ্ধ দীর্ঘ সারি।

স্থাপত্যে আধুনিকতা ও ঐতিহ্যের মেলবন্ধন
বর্তমানে মসজিদে নববী প্রায় কয়েক লক্ষ মুসল্লির একসঙ্গে নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা রাখে। বিশাল সাদা ছাতাগুলো দিনের প্রখর রোদে শীতল ছায়া দেয়, আর রাতের বেলায় আলোয় ঝলমল করে পুরো প্রাঙ্গণ। অত্যাধুনিক শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, মার্বেল পাথরের মেঝে ও নান্দনিক ক্যালিগ্রাফি—সব মিলিয়ে এটি আধুনিক প্রকৌশল ও ঐতিহ্যবাহী ইসলামী শিল্পকলার এক অনন্য নিদর্শন।

কেন লাখো মানুষ ছুটে আসে?
১. ধর্মীয় মর্যাদা: ইসলামের দ্বিতীয় পবিত্রতম স্থান হওয়ায় এখানে একবার নামাজ আদায়ের সওয়াব অন্য মসজিদের তুলনায় বহুগুণ বেশি বলে বিশ্বাস করা হয়।
২. রাসূল (সা.)-এর স্মৃতি: মহানবীর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় এই মসজিদকে ঘিরেই রচিত হয়েছে।
৩. আধ্যাত্মিক শান্তি: এখানে প্রবেশ করলেই এক ধরনের প্রশান্তি ও ভক্তির আবহ অনুভূত হয় বলে অনেক দর্শনার্থীর অভিমত।
৪. ঐতিহাসিক গুরুত্ব: ইসলামি সভ্যতার সূতিকাগার হিসেবে মদিনার গুরুত্ব অপরিসীম।

বিশ্ব মুসলিম ঐক্যের প্রতীক
মসজিদে নববীর প্রাঙ্গণে দাঁড়ালে দেখা যায় ভাষা, বর্ণ, দেশ—সব ভেদাভেদ ভুলে এক কাতারে দাঁড়িয়ে আছেন লাখো মানুষ। আফ্রিকা, এশিয়া, ইউরোপ কিংবা আমেরিকা—সব প্রান্তের মুসল্লির মিলনমেলায় এটি হয়ে ওঠে বিশ্ব মুসলিম ভ্রাতৃত্বের এক জীবন্ত প্রতীক।

মসজিদে নববী কেবল একটি স্থাপনা নয়; এটি মুসলিম হৃদয়ের গভীরতম অনুভূতির নাম। ইতিহাস, বিশ্বাস ও ভালোবাসার অনন্য সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই পবিত্র স্থান আজও কোটি মানুষের স্বপ্নযাত্রার গন্তব্য। তাই মদিনার এই মসজিদ শুধু দর্শনীয় নয়—এটি আত্মার আহ্বান, ঈমানের শক্তি এবং বিশ্ব মুসলিম ঐক্যের অমলিন প্রতীক।

 

এই সম্পর্কিত আরো