গোয়াইনগাট উপজেলার ৩ নম্বর পূর্ব জাফলং ইউনিয়নের জমিদার মসজিদের মুখ থেকে চৈলাখাল পর্যন্ত এলাকায় মানিক ওরফে কালা মানিকের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। তার অবৈধ চাঁদা আদায়ে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় সূত্র জানায়, উক্ত সড়ক ও ঘাট এলাকা দীর্ঘদিন ধরে কালা মানিকের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে—তার নির্ধারিত চাঁদা পরিশোধ না করলে কোনো গাড়ি বালি, পাথর বা অন্যান্য মালামাল নিয়ে এলাকা ত্যাগ করতে পারে না। গাড়ির আকারভেদে তিনি চাঁদার হার নির্ধারণ করেছেন বলে জানা গেছে। সূত্র মতে, বড় ডাম্পার থেকে ১,০০০ টাকা, মিনি ডাম্পার থেকে ৫০০ টাকা এবং ট্রাক্টর থেকে ২০০ টাকা করে আদায় করা হয়।
সে স্থানীয় মামার বাজারের ফখরুল আলমের পর্যটন হোটেলের ম্যানেজার ছিল। এখন সে কোটি টাকার মালিক।
ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, উপজেলা প্রশাসনের নির্ধারিত নিয়ম ও রাজস্ব ব্যবস্থাকে উপেক্ষা করে কালা মানিক নিজ উদ্যোগে অবৈধভাবে এই অর্থ আদায় করছেন। ফলে সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং ব্যবসায়ীরা বাড়তি আর্থিক চাপের মুখে পড়ছেন।
শুধু চাঁদাবাজিই নয়, তার বিরুদ্ধে বালি-পাথর লুটপাট, চোরাচালানসহ নানা অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, তার এই বেপরোয়া কর্মকাণ্ডের পেছনে প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়া রয়েছে, যার কারণে অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তিনি দীর্ঘদিন ধরেই ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে গেছেন।
স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, জাফলংয়ের পর্যটন ও ব্যবসায়িক পরিবেশ রক্ষায় অবৈধ চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্ব বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত কালা মানিকের বক্তব্য জানতে চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য মেলেনি।
জাফলংয়ের বিট অফিসার এসআই হান্নান আহমদ বলেন, মানিককে আমরা খোঁজছি। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থ গ্রহণ করা হবে।
গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। ‘কালো মানিক’-এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রতন কুমার অধিকারী জানান, উপজেলা প্রশাসন থেকে কোন ধরনের ট্যাস্ক এখানে বসানো হয়নি। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।