বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
✔ বাংলা টেক্সট কনভার্টার
শিরোনাম
advertisement
সারাদেশ

জাতীয় নির্বাচন

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে জয়ের সুবাস পাচ্ছে বিএনপি

আগামীকাল বৃহস্পতিবার সারাদেশে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে । এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জনমনে যেমন রয়েছে ব্যাপক কৌতুহল, তেমনি বিভিন্ন মহলে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। নির্বাচনের পরিবেশ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে পৃথক জরিপ চালানো হয়েছে। মূলত নিরাপত্তা ছক প্রণয়নের উদ্দেশ্যে এসব জরিপ করা হলেও একটি গোয়েন্দা সংস্থার মাঠ পর্যায়ের জরিপ প্রতিবেদন থেকে সম্ভাব্য ফলাফল সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে।

জাতীয় একটি গণমাধ্যমের হাতে আসা ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, আসন্ন নির্বাচনে অধিকাংশ আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে প্রতিবেদনে একটি বিশেষ দিক ফুটে উঠেছে—তা হলো বিএনপির মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে তাদের দীর্ঘদিনের মিত্র জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে। এছাড়া বেশ কয়েকটি আসনে দলের বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থী এবং জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা জয়ী হতে পারেন বলে আভাস দেওয়া হয়েছে। কোনো কোনো আসনে লড়াই হবে ত্রিমুখী বা চতুর্মুখী।

রংপুর বিভাগ:
প্রতিবেদন অনুযায়ী, উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে বিএনপির অবস্থান বেশ সংহত। পঞ্চগড়-১ ও ২ আসনে বিএনপি প্রার্থীরা জয়লাভ করতে পারেন, যদিও পঞ্চগড়-২ আসনে জামায়াতের সফিউল আলমের সঙ্গে তীব্র লড়াইয়ের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জয় নিশ্চিত বলা হলেও ঠাকুরগাঁও-২ আসনে জামায়াত প্রার্থীর জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। দিনাজপুরের ছয়টি আসনের মধ্যে চারটিতে বিএনপি এবং একটিতে জামায়াত ও একটিতে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীর জয়ের কথা বলা হয়েছে। নীলফামারী ও কুড়িগ্রামে বিএনপি-জামায়াত ও জাতীয় পার্টির মধ্যে ত্রিমুখী ও চতুর্মুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।

রাজশাহী বিভাগ:
বগুড়ার সাতটি আসনের মধ্যে ছয়টিতেই বিএনপির জয়ের সম্ভাবনা জোরালো। জয়পুরহাট ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গেছে। নওগাঁ ও রাজশাহীর আসনগুলোতেও বিএনপির আধিপত্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। নাটোরে বিএনপি, জামায়াত ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে লড়াই হবে সমানে সমান। পাবনা ও সিরাজগঞ্জের আসনগুলোতেও বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীরা মূল লড়াইয়ে থাকছেন।

খুলনা বিভাগ:
খুলনা অঞ্চলের জেলাগুলোতেও বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার চিত্র ফুটে উঠেছে। কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুরে বিএনপির পাল্লা ভারী থাকলেও ঝিনাইদহ ও যশোরে জামায়াতে ইসলামী বেশ কয়েকটি আসনে জয়ী হতে পারে। খুলনার ছয়টি আসনের মধ্যে চারটিতে বিএনপি এগিয়ে থাকলেও বাকি দুইটিতে জামায়াতের সঙ্গে তীব্র লড়াই হবে। সাতক্ষীরার চারটি আসনের মধ্যে দুইটিতে জামায়াতের জয়ের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে।

বরিশাল বিভাগ:
বরিশাল ও ঝালকাঠির সবগুলো আসনেই বিএনপির একক আধিপত্যের কথা বলা হয়েছে প্রতিবেদনে। তবে পটুয়াখালী ও ভোলায় বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী ও জামায়াতের সঙ্গে প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হতে পারে দলটি। পিরোজপুরে একটি আসনে ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের (হাতপাখা) প্রার্থীও জয়ের লড়াইয়ে থাকতে পারেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, মূলত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং সম্ভাব্য গোলযোগপূর্ণ কেন্দ্রগুলো চিহ্নিত করার লক্ষ্যেই এই জরিপ চালানো হয়েছে। বিভিন্ন আসনে ত্রিমুখী ও চতুর্মুখী লড়াইয়ের কারণে ভোটের দিন নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার সুপারিশ করা হয়েছে। তবে রাজনৈতিক সমীকরণে এই প্রতিবেদনটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এই সম্পর্কিত আরো